কুরবানীর গুরুত্ব ও জিলহজ্জ মাসের আমল

আলাউদ্দীন আল আজাদ, ইসলামী আলোচক, এটিভি সংবাদ

কুরবানী ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হাদীস শরীফে এ ইবাদতের প্রতি বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এর বিভিন্ন ফজিলত উল্লেখ করা হয়েছে। কুরবানী অর্থ আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের জন্য শরীয়ত নির্দেশিত কোন প্রিয় বস্তু আল্লাহতালার দরবারে পেশ করা।

এ কুরবানী হযরত আদম (আঃ) এর যুগ থেকে প্রচলিত ছিল। সূরা মায়িদা ২৭ থেকে ৩১ নম্বর আয়াতে আদম (আঃ) এর দুই সন্তানের কুরবানীর কথা এসেছে। তবে সকল নবীর শরীয়তে কুরবানীর পন্থায় এক ছিলনা। ক্ষেত্রবিশেষ কিছুটা ভিন্নতা ছিল, সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ এর উপর যে শরীয়ত অবতীর্ণ হয়েছে তার মূল সূত্র মিল্লাতে ইব্রাহিমিতে বিদ্যমান ছিল। এ জন্য কুরবানীকে সুন্নাতে ইব্রাহিম বলা হয়ে থাকে।

ইসলাম ধর্মে কুরবানী

আল্লাহ তা’আলা বলেন সূরা হজ্জের ৩৬ নং আয়াতে, পবিত্র মক্কায় কুরবানী করা জন্তুকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর একটি নিদর্শন করেছি এর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। এজন্য ইসলাম ধর্মে কুরবানী শুধু রসম বা প্রথা নয় বরং, আল্লাহ তায়ালার নিকট একটি বিশেষ ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা সূরা হজ্জের ৩৭ নম্বর আয়াতে বলেন। আল্লাহর নিকট গোশত বা রক্ত কিছুই পৌঁছে না পৌঁছে শুধু তোমাদের অন্তরে তাকওয়া।

জিলহজ মাসের বিশেষ কিছু আমল:

(১) চুল নখ না কাটা

হাদীসে এসেছে হযরত উম্মে সালামা রাঃ হতে বর্ণিত নবীজি এরশাদ করেন তোমরা যদি জিলহজের চাঁদ দেখতে পাও আর তোমাদের কেউ যদি কুরবানী করার ইচ্ছা করে থাকে। তবে সে যেন নিজর চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে। (মুসলিম শরীফ হাদিস ১৯৭৭)

(২) আমল– দিনে নফল রোজা রাখা রাতে এবাদত করা। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন রাসুল (সাঃ) বলেছেন আল্লাহ তাআলার নিকট জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ইবাদত অধিক পছন্দনীয় অন্য কোন ইবাদত এত পছন্দনীয় নেই। এর প্রতিদিনের রোজা এক বছরের রোজার সমতুল্য আর প্রত্যেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সমতুল্য। বিশেষভাবে ০৯ তারিখ আরাফার রোজা। আমি আল্লাহ তালার দরবারে আশা রাখি। আরাফাত দিবসের রোজা রাখলে তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বছরের গোনাহ মাফ করে দিবেন। (তিরমিজি শরিফ ১/৮৫৭)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল আল্লাহ তায়ালার নিকট যত প্রিয় আর কোন আমল এত প্রিয় নয়।

(৩) আমল-তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা

জিলহজ মাসের ০৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত। প্রত্যেক ফরয নামাযের পর একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব।( মোট ২৩ ওক্ত)( ইলাউস সুনান ৮/১৪৯ দুররুল মুখতার ৩/১৭৭৪)

(৪) আমল- সচ্ছল ব্যক্তির কুরবানী করা

জিলহজ্ব মাসের ১০,১১,১২ তারিখে যে কোন দিন কোন ব্যক্তির মালিকানায় নিত্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ/সাড়ে ৫২ তোলা রুপা থাকে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। পুরুষ মহিলা সকলের এর এ বিধান প্রযোজ্য (৫) আমল- কঠোর হুঁশিয়ারি।

আবু হুরায়রা(রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূল এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কুরবানী করার শক্তি সামর্থ্য রাখে অথচ কুরবানী করে না। সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।

আল্লাহ তায়ালা সকলকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সকলকে এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত আদায় করার তৌফিক দান করুন আমিন।

image_print
SHARE