চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু!

অসহায় পিতার বিচার প্রার্থনা…

গাজী মমিন, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর), এটিভি সংবাদ

জেলা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আয়েশা আক্তার নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এর আগে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আয়েশা আক্তার ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন বলে শ্বশুর পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। যদিও, গৃহবধুর স্বামী ও তার বাবাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্বামী জসিম উদ্দিনসহ ৪ জনকে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ করেছেন গৃহবধুর বাবা আব্দুর রাজ্জাক পাটওয়ারী। বুধবার রাতে উপজেলার ইছাপুরা গ্রামের শেখ বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।

আয়েশা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক পাটওয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগে করেন। এতে তিনি দাবী করেন, বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় আমার জামাতা মোবাইল ফোন থেকে কল দিয়ে আমাকে জানায়, আয়েশা আক্তার ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।

খবর শুনে রাতেই আমি ওই বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, আয়েশা আক্তারের মরদেহ ঘরের মেঝেতে শোয়ানো। তিনি দাবী করেন, আমার কন্যা ফাঁসি দেয়নি। শারীরিক নির্যাতনে সে খুন হয়েছে।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার বিশেরবন্দ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক পাটওয়ারীর কন্যা আয়েশা আক্তার (২০)। পার্শ্ববর্তী ইছাপুরা গ্রামের মো. আলী শেখের ছেলে জসীম উদ্দিন (৩২) এর সাথে ৫ মাস পূর্বে দুই লাখ টাকা দেনমোহর ধার্যে পারিবারিকভাবে আয়েশা আক্তারকে বিয়ে দেন। বিয়েতে মেয়েকে
স্বর্ণালংকার ছাড়াও, প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকার আসবাবপত্র দিয়েছেন। বিয়ের মাস খানেক পর একটি সেচ মেশিন ক্রয়ের কথা বলে জামাতা জসীম উদ্দিন যৌতুক দাবী করে। যৌতুকের টাকা না পেয়ে শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন।

এক পর্যায়ে মেয়ের সুখের জন্য ধারদেনা করে জসিম উদ্দিনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেন বলে দাবী করেন
আব্দুর রাজ্জাক। ওই টাকা দেওয়ার কিছুদিন পর পুনরায় বিভিন্ন অজুহাতে আয়েশার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। এবার, জামাতার সঙ্গে যুক্ত হন তার শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, ননদ ও ভাসুর। মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন থেকে রেহাই দিতে আমি বিভিন্ন সময়ে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বেয়াই ও বেয়ানের হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা আমার অনুরোধ রাখেননি।

তিনি দাবী করে বলেন, বুধবার বিকালে মেয়েকে আবারও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে আয়েশা আক্তার মোবাইল ফোনে আমাকে জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে কথা হয় কন্যাহারা পিতা আব্দুর রাজ্জাক এর সঙ্গে। এ সময়ে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। উপযুক্ত বিচার দাবী করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইছাপুরা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন আয়েশাকে বিয়ের পূর্বেও দু’টি বিবাহ করেছেন। ওই দু’জন স্ত্রীকেও বিভিন্ন অজুহাতে নির্যাতন করা হয়েছে বলে
অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে আয়েশার ওপরও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। গ্রামবাসী বলেন, আয়েশাকে খুন করা হলে, তদন্ত পূর্বক উপযুক্ত বিচার হওয়া প্রয়োজন। তারা আরও জানিয়েছে, আয়েশা মারা যাওয়ার পর থেকে তার শশুর আলী শেখ ও ছেলে মাসুদ, জসিম, খোকন গাঁ ঢাকা দিয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বাড়ীতে গিয়ে তাদের বসতঘরে কাউকে পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে বসতঘরের অদূরে শ্বাশুড়ি আমেনা বেগম (৫২)কে পেলেও, তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার ছেলের সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে, আপনের পুত্রবধুর লাশ কে নামিয়েছে এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি
বলেন, আমার ছেলেই নামিয়েছে এর তিনি কিছু জানাতে পারেননি। আপনার স্বামী ও পুত্ররা কোথায়, এমন প্রশ্নে বলেন, আমি জানি না। তাদের মোবাইল ফোন নম্বরও তিনি জানাতে পারেননি।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, আয়েশার মৃত্যুতে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। আয়েশার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুরে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এর ভিত্তিতে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

image_print
SHARE