শীতে বাড়তে শুরু করেছে রোগীর সংখ্যা

আরিফুল ইসলাম, রংপুর, এটিভি সংবাদ

আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে উত্তরাঞ্চলে প্রতিদিনে ৮ থেকে ১০ জন শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখা যায়।

প্রকৃতিতে এখন শীতের আমেজ। দিনভর গরম থাকলেও বিকাল থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে প্রকৃতি। ক্রমেই পরিবর্তন হচ্ছে আবহাওয়া। এ পরিবর্তের সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছেন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে।

অক্টোবরের শেষের দিকে ঠান্ডাজনিত রোগী আসছে। গত সপ্তা থেকে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেশ বেড়েছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, হাঁপানি, সর্দি-জ্বর হওয়ায় শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে আসছেন অভিভাবকরা। ঠান্ডা কম থাকার কারণে চিকিৎসা ঠিকঠাক ভাবে দেয়ায় দ্রুত সেবা নিয়ে রোগীর স্বজনরা বাসায় ফিরে যাচ্ছেন। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে ঠান্ডার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে সেই সাথে শিশুসহ বয়স্করা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

রোগীর স্বজন তাসলিমা আক্তার সেতু বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে হালকা হালকা ঠান্ডা অনুভব করে, তা আসতে আসতে বেশি হয়। এলাকার চিকিৎসকদের চিকিৎসা নেওয়া হলেও ভালো না হওয়ায় রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি
করানো হয়, দুদিনে সুস্থ হলেও শীতকালিন সময় কোনো ভাবে ঠান্ডা না লাগে সাবধানে চলাফেরার নির্দেশ দেন চিকিৎসক।

উপ-পরিচালক, ডাঃ আঃ মঃ আকতারুজ্জামান বলেন,আবহাওয়া পরিবর্তন এবং ভ্যাপসা গরমসহ নানা কারণে ঠান্ডা-জ্বর, নিউমোনিয়া এবং বিভিন্ন ধরনের রোগ হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং যারা দীর্ঘদিন রোগে ভুগছেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা দুর্বল তারা এ সময়ে বেশি অসুখে ভোগে। বাতাসের সঙ্গে অক্সিজেন শ্বাসনালির মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছায়। এ বাতাসের সঙ্গে রোগজীবাণু, ধুলাবালি ঢুকে ফুসফুসের শ্বাসনালিকে সংক্রমণ করে। বিশেষ করে শীতের সময় এ রোগ বেশি হয়।

তখন ফুসফুসের শ্বাসনালিতে আর্দ্রতা কমে যায়। এতে ফুসফুসে ইনফেকশন, নিউমোনিয়া, ব্রংকিউলাইটিস, অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট বাড়ে। আর এ রোগ হওয়ার জন্য আমরাই পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছি। কারণ আমরা কেউ সচেতন না। তিনি বলেন, এ সময়ে আমাদের বেশি করে পানি পান করতে হবে। তা হলে আমাদের শ্বাসনালিতে আর্দ্রতা কমবে না এবং রোগজীবাণুগুলো শরীর থেকে বের হয়ে যাবে। আরেকটি হলো এ সময়ে আমাদের তাজা ফলমূল খেতে হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন অন্তত আধাঘণ্টা কায়িক শ্রম দিতে হবে।

আর যারা দিন মজুর কাজ করে তারা অবশ্যই মোটা কাপর পরে কাজ করবে এবং ঠান্ডা পানি থেকে বিরত থাকতে হবে। সেই সাথে বিভিন্ন পেশায় যারা কাজ করে তারাও মোটা কাপড় ব্যবহার করে বাইরে বেড় হতে হবে বলে সতর্কতা করেছেন।