করোনার প্রভাব: এশিয়ার শীর্ষ ধনীর স্থান হারালেন আম্বানী

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভারতের এনার্জি টাইকুন শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি আর এশিয়ার শীর্ষ ধনী নন। মঙ্গলবার ব্লুমবার্গ বিলিওনেয়ার্স ইনডেক্স এ খবর পাওয়া গেছে।

 

করোনাভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ এবং গত তিন দশকে অপরিশোধিত তেলের দামের সর্বাধিক পতনের কারণে এশিয়ার সবচেয়ে ধনীর শিরোপা খোয়ালেন ‘রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজে’র কর্ণধার শিল্পপতি মুকেশ অম্বানী। ধনীদের এধরনের রদবদল হচ্ছে বিশ্বের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতনের মধ্যে দিয়ে।

 

সোমবার শেয়ারের দরপতনে মুকেশ আম্বানি ৫.৮ বিলিয়ন ডলার খোয়ান। ফলে ব্লুমবার্গ বিলিওনারি তালিকায় ২ নম্বরে নেমে যান আম্বানি। তার স্থানে উঠে এসেছেন ৪৪.৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে আলীবাবা গ্রুপের প্রধান জ্যাক মা। আম্বানির চেয়ে তার সম্পদ এখন বেশি রয়েছে ২.৬ বিলিয়ন ডলার।

 

ব্লুমবার্গের ধনীদের তালিকায় তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেশি যাদের ব্যবসা আন্তর্জাতিক জালানি ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত। আরেক শীর্ষ ধনী ওয়াইল্ডক্যাটার হ্যারল্ড হ্যামসের সম্পদ প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ২.৪ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে। তারই আরেক সতীর্থ জেফ হিল্ডারব্রান্ড খুইয়েছেন ৩ বিলিয়ন ডলার। তারা উভয়ই ছিটকে পড়েছেন ব্লুমবাগ শীর্ষ ধনীদের তালিকা থেকে।

 

সেনসেক্স শেয়ার দরপতনে মুকেশ আম্বানি হারিয়েছেন ভারতীয় মুদ্রায় ৪১ হাজার ৭শ কোটি রুপি। ফোর্বস’এর হিসেবে আম্বানির মোট সম্পদের পরিমান ছিল ৪২.২ বিলিয়ন যার ১১.৬৮ শতাংশ দরপতনে উবে যায়। কারণ তার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির দরপতন ঘটে ১৩ শতাংশ। ২০০৮ সালে অক্টোবরের পর এ দরপতন সর্বোচ্চ। আম্বানি বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের ২০তম ব্যক্তি ছিলেন।

 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যে হারে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে, তাতে বিশ্বে বড় ধরনের আর্থিক মন্দার আশঙ্কা উত্তরোত্তর ঘনীভূত হচ্ছে। তার জেরে এক দিনে মুকেশের মোট সম্পদের পরিমাণ কমে গিয়েছে ৫৮০ কোটি ডলার। যা মোট সম্পদের পরিমাণের নিরিখে আলিবাবা গ্রুপের কর্ণধার জ্যাক মা-র চেয়ে মুকেশকে ২৬০ কোটি ডলার পিছিয়ে দিয়েছে।

 

২০১৮-র মাঝামাঝি যিনি এশিয়ার সবচেয়ে ধনীর শিরোপা খুইয়েছিলেন, সেই ৪ হাজার সাড়ে ৪০০ কোটি ডলারের মোট সম্পদের মালিক জ্যাক মা আবার এশিয়ার ধনীদের তালিকায় চলে এসেছেন এক নম্বরে।

 

গত তিন দশকে তেলের দাম সর্বনিম্ন হয়ে পড়ায় আর বিশ্বে করোনাভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণে তীব্র আর্থিক মন্দার আশঙ্কা ঘনীভূত হওয়ায় মুকেশের মূল সংস্থা রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ আর এক বছরের মধ্যে বাজারে তার যাবতীয় ধারকর্জের পিরমাণ শূন্যে নামিয়ে আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। তার জেরে রিলায়্যান্সের শেয়ারের দর পড়েছে হু হু করে।