নতুন বছরের শুরুতেই ৭ কোটি ২০ লাখ বই পাচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ॥ স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রস্তুতি নিয়েই খুলবে স্কুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রাথমিক স্তরে (৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণি) ২০২১ শিক্ষাবর্ষের বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের বিনামূল্যের সাত কোটি ২০ লাখ ৯ হাজার ৩৭৩টি বই বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জানা গেছে, আজ বুধবার (১৯ আগষ্ট) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, এসব বই বিতরণে সরকারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩২ কোটি ৪১ লাখ ৫১ হাজার ৭৪৬ টাকা। বিভিন্ন মুদ্রণ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিয়ে ৯৮টি লটে এসব বই সরবরাহ করবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রতি বছর ১ জানুয়ারি প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল, মাধ্যমিক ও কারিগরি স্তরের সব শিক্ষর্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করে আসছে।

এ লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের উল্লেখিত বই মুদ্রণ, বাঁধাই এবং জেলা-উপজেলা ভিত্তিক সরবরাহের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৯টি বিষয়ের পাঠ্যপুস্তক সর্বমোট ৫১০টি গন্তব্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মুদ্রণ ও বাঁধাই সক্ষমতা বিবেচনায় এনে শ্রেণি ও বিষয়ভিত্তিক পাঠ্যপুস্তকের সমন্বয়ে উপজেলা ভিত্তিক পাঠ্যপুস্তক বিতরণের কাজটি সম্পন্ন করতে হয়।

জানা গেছে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে তাদের কাঙ্ক্ষিত পাঠ্যপুস্তক যথাসময়ে বিতরণের স্বার্থে উপজেলা ও জেলা অবস্থান বিবেচনা করে মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ সুষ্ঠু এবং সহজভাবে করার উদ্দেশ্যে ৯৮টি লটে বিভক্ত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বই তুলে দিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রস্তুতি নিয়েই খুলবে প্রাথমিক বিদ্যালয়:

দেশে করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলে আগের মতো আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হবে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদেরকে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে স্কুলে প্রবেশ করতে হবে।

এ সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা চূড়ান্ত করতে গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম হোসেন। সভা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

খসড়া নির্দেশনায় দেখা গেছে, স্কুলের গেটে বা প্রবেশের স্থানে হাত ধোয়ার জন্য সাবান ও পানির ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে প্রবেশ করবে। এছাড়া থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করানো হবে।

এছাড়া বিদ্যালয় খোলার সরকারি নির্দেশনা আসার পর ন্যূনতম ১৫ দিন আগে শিক্ষক, কর্মচারী এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সদস্যদের উপস্থিতিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ক্লাস উপযোগী করে বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন করে তুলতে হবে। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে বলেও খসড়া নির্দেশনায় দেখা গেছে।

এ বিষয় নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগের মতো আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হবে না। বিদ্যালয় খোলার ১৫ দিন আগে থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রস্তুতি শুরু করা হবে।

ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করণীয় ও প্রতিদিন কীভাবে ক্লাস পরিচালনা করা হবে সেসব বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কবে নাগাদ খুলবে তা আগামী ২৫ আগস্টের পর জানা যাবে।

করোনা সংক্রমণের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে এই বন্ধের মধ্যে যাতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি না হয় সেজন্য সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে সরকার প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া বাংলাদেশ বেতারসহ বেশ কয়েকটি রেডিও’র মাধ্যমেও এরইমধ্যে পাঠদান শুরু হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও অনলাইনের মাধ্যমে তাদের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে।