একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, যা জানা প্রয়োজন

বিশেষ প্রতিবেদন
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ সমাবেশে কয়েকটি মিলিটারি-গ্রেডের নিক্ষেপ করা হয়। সেই হামলায় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত ও স্পিøন্টারের আঘাতে ৩শ’র বেশি জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান। আহতদের মধ্যে অনেকের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আক্রমণ থেকে রক্ষা পেলেও, কানে আঘাত পান, যার প্রভাবে আজ পর্যন্ত তিনি ভুগছেন।
শেখ হাসিনাকে হত্যা করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করা। এটি বাংলাদেশের মাটিতে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার একটি ছিল। এটি ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর সন্ত্রাসী হামলা, কারণ এটি রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট ছিল এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূল করার জন্যই এই হামলা চালানো হয়।
সংক্ষেপে বলা যায়, হামলাটি চালায় হরকাতুল জিহাদ নামে একটি জঙ্গি সংগঠন (হুজি)। এর সঙ্গে বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান, সরকারের তৎকালীন মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির উপ-শিক্ষামন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, জামায়াতে ইসলামের সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরী, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এবং এনএসআইয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং আইন প্রণয়নকারীরাও সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। এ ছাড়া, কাশ্মীরভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন, হিজবুল মুজাহিদিন, তেহরিক জিহাদ-ই ইসলাম, লস্কর-ই-তৈয়বা এবং মিয়ানমারভিত্তিক রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) সহ বেশ কয়েকটি বিদেশি গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত ছিল।
এই ভয়ংকর অপরাধের বিচারকাজ এখন সম্পন্ন। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় ঘোষণা হবে। আর এই ন্যায় বিচার পেতে পার হয়ে গেল ১৪টি বছর।

হামলার মূল উদ্দেশ্য

চার্জশিট, বাদীদের সাক্ষ্যপ্রমাণ, হরকাতুল জিহাদের (হুজি) প্রধান মুফতি হান্নান এবং খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ও তৎকালীন এপিএস-১ সাইফুল ইসলাম ডিউকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এটি পরিষ্কার হয়ে গেছে যে এই আক্রমণের উদ্দেশ্য এমন ছিলÑ খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান তারেক রহমান, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করে। এই কাজের জন্য হুজি সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হয়। অবশ্য, হুজিদের বিকৃত মতাদর্শের কারণে তাদের খুব বেশি জোরাজুরি করতে হয়নি। কারণ ধর্মনিরপেক্ষ নেতৃত্বের জন্য শেখ হাসিনাকে তারা ‘ইসলামের শত্রু’ বলে বিবেচিত করে।
হামলার কয়েকদিন আগেই গুলশানে ‘হাওয়া ভবন’ নামে পরিচিত তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। তারেক রহমান এবং তার অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে হুজি সন্ত্রাসীরা সেখানে সাক্ষাৎ করে নির্দেশনা গ্রহণ করে এবং সার্বিক প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করে। এই সহযোগীদের মধ্যে রয়েছেনÑ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব ও তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, এনএসআই এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম ও ডিজিএফআই এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী। মুফতী হান্নানের স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী মেজর নূর চৌধুরীও সেই হামলার ঘটনায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয় হাওয়া ভবনে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ হুজি আক্রমণকারীদের এবং বিএনপি-জামায়াতের পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে বৈঠকের ব্যবস্থা করেন। হাওয়া ভবনে ছাড়াও মোহাম্মদপুরের হুজির আস্তানায় এবং ধানমণ্ডিতে বিএনপির উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর বাসভবনে অন্যান্য পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় তাজউদ্দীন নামের একজন হুজি সদস্য হত্যাকারীদের কাছে গ্রেনেড সরবরাহ করে।
এই হামলায় আরও একজন অভিযুক্ত আসামি পাকিস্তানি সন্ত্রাসী আবু ইউসুফ এক স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতিতে বলেছে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-জিহাদি (টিজেআই) এর নেতা মুজাফফর শাহ গ্রেনেডগুলো তাজউদ্দিকে সরবরাহ করে। কিভাবে হুজিরা বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর থেকে সমর্থন নিশ্চিত করে সে বিষয়েও কথা বলেন।

অপারেশন : ‘লাইট স্ন্যাক্স ফর শেখ হাসিনা’

হামলার একদিন আগে, ২০ আগস্ট হুজি হত্যাকারীরা, কাজল এবং আবু জান্ডাল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে হামলার স্থান পরিদর্শন করেন। অপারেশনটির নাম ছিল ‘লাইট স্ন্যাক্স ফর শেখ হাসিনা’ (শেখ হাসিনাকে নাশতা করানো)। ২১ আগস্ট, তারা বাড্ডায় একটি পূর্বনির্ধারিত বাড়িতে সাক্ষাৎ করে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে হামলাকারী কাজল ও আবু জান্দালের নেতৃত্বাধীন মোট ১২ জন ওই ঘটনায় অংশ নেবে। তারপর তারা একসঙ্গে নামাজ পড়বে এবং মধ্যাহ্ন ভোজ করবে। চূড়ান্ত বৈঠকের পর মাওলানা সাঈদ জিহাদের বক্তৃতা দেন। এরপর মুফতি হান্নান ১২ জন হামলাকারীর কাছে ১৫টি গ্রেনেড হস্তান্তর করেন।
আলোচনা অনুযায়ী আসরের নামাজের পর তারা সবাই গোলাপ শাহ মাজারের কাছে ফিরে গেল। এরপর তারা ট্রাকের চারপাশে অবস্থান নেয় যেখানে আওয়ামী লীগ নেতারা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। শেখ হাসিনার বক্তব্য শুরু হলে আবু জানদাল প্রথম গ্রেনেডটি নিক্ষেপ করে। তারপর, প্রত্যেকে নিজের গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ওই স্থান ত্যাগ করে। আগে থেকেই নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ায় হামলাকারীরা দিবালোকে অপরাধ করে পালিয়ে যেতে পারে।

২০০৪-০৬ : তদন্ত ও বিচারকাজে বাধা

যেহেতু জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় সরকার ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আক্রমণের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিল এ কারণেই ক্ষমতায় থাকাকালীন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের সঠিক তদন্ত না করার পক্ষে ছিল। প্রকৃতপক্ষে, তারা প্রক্রিয়াটির বিপরীতে কাজ করে তদন্তটি অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়েছিল এবং আক্রমণকারীদের বিচার থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করেছিল।
ওই হামলার সব ঘটনাগুলো একদমই স্পষ্ট ছিল। সাধারণত, স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ সব ধরনের সভা সমাবেশে আওয়ামী লীগের নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাজ করত। এমনকি নিকটবর্তী ভবনগুলোর ছাদ থেকেও তারা নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করত; কিন্তু ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট, স্বেচ্ছাসেবকদের আশপাশের ভবনের কোন ছাদে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
গ্রেনেড বিস্ফোরণের পরপরই, পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং যেসব নেতাকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করছিল তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। ওই সময়ই তারা হামলাকারীদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। হামলার পরবর্তী সময়ে সেখানে থেকে ঘটনার আলামত ও প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওই এলাকা বন্ধ করা হলেও সেখানকার প্রমাণ ধ্বংস করতে ওই এলাকা সাবানমিশ্রিত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়। এমনকি উদ্ধারকৃত গ্রেনেডগুলোও সংরক্ষণ না করে ধ্বংস করা হয়।
শুধুমাত্র লোক দেখানোর জন্য, তখন বিএনপি-জামায়াত সরকার বিচারপতি জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে এক ব্যক্তি দ্বারা জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করে। অত্যন্ত হাস্যকরভাবে তদন্তকাজ শেষ করে এই কমিশন উপসংহার টেনেছিল যে ‘বিদেশি ও স্থানীয় শত্রুরা’ এই হামলা চালিয়েছিল। দুই বছর পরে একই বিচারপতি জয়নাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উন্নীত হন, সম্ভবত তার ‘রিপোর্ট’ এর জন্যই তাকে পুরস্কৃত করা হয়।
বিএনপি-জামায়াত সরকারের বিচার প্রক্রিয়ার অবসান ঘটানোর মূল কৌশলগুলোর মধ্যে একটি ছিল নির্দোষ ব্যক্তিদের জড়িত করা। উদাহরণস্বরূপ, ক্ষুদ্র অপরাধী জজ মিয়া, ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মিথ্যা অভিযোগে জড়িত ছিল। ২০০৫ সালের ১০ জুন ফৌজদারি তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জজ মিয়াকে তার নিজ বাড়ি গ্রেফতার করে। তিন বছর পর নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। একই রকম আরেকজন ব্যক্তি ছিলেন যার নাম পার্থ, যাকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বলা হয়। ওই নির্যাতনের কারণে এখনো পোস্টট্রমাটিক বিষণ্নতায় ভুগছেন তিনি।
হামলাকারীদের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও আক্রমণকারী সন্ত্রাসী তাজউদ্দিন ছিলেন বিএনপির উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ছোট ভাই। তারেক রহমানের নির্দেশে খালেদা জিয়ার ভাতিজা ও তার এপিএস-১ সাইফুল ইসলাম ডিউকসহ অন্যদের বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। এরা সবাই ডিজিএফআই এর মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন।
ওই হামলার অন্যতম প্রধান আক্রমণকারী হুজি প্রধান মুফতি হান্নান। ২১ আগস্ট হামলায় জড়িত থাকলেও বিএনপি-জামায়াত সরকারের ক্ষমতায় থাকায় হান্নান ও তার সহযোগী বিপুলকে গ্রেফতার করা হয়নি। কিন্তু, অন্য মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর তারা ২১ আগস্ট হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

২০০৬-২০১৮ : বিচারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা

দুই বছর ধরে সিআইডি মামলার চার্জশিট দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তবে বিএনপি নেতারা বেশ কয়েকবার দাবি করেছিলেন যে তদন্ত শেষ হওয়ার পথে এবং সবকিছু প্রকাশ করা হবে। তদন্তকারীরা হামলার পেছনে থাকাদের খুঁজে বের করার পরিবর্তে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করার জন্য তদন্তকে ভুল পথে নিয়ে যায়।
২০০৭ সালের জুলাই মাসে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে ফৌজদারি তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একটি নতুন তদন্ত শুরু করে। ২০০৮ সালের ১১ই জুন সিআইডি হুজি নেতা মুফতি হান্নান ও সাবেক বিএনপির উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে একটি চার্জশিট দাখিল করে। সেখানে বিএনপি-জামায়াত সরকারের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
যাই হোক, তদন্তকারীরা হামলার মাস্টারমাইন্ড এবং আক্রমণে ব্যবহৃত গ্রেনেডের উৎস শনাক্ত করতে পারেনি। এরপর, ২০০৯ সালের ২২ জুন, গ্রেনেড সরবরাহকারী এবং আক্রমণের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করার জন্য প্রসিকিউশন আরও তদন্তের চেষ্টা করেছিল। ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট, আদালত তদন্তের আদেশ দেন এবং নতুন একজন সিআইডি কর্মকর্তাকে এই মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অবশেষে ২০১১ সালের জুলাই মাসে সিআইডি একটি নতুন চার্জশিট জমা দেয়, যাতে দেখা যায় প্রভাবশালী বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী নেতা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা, পুলিশ, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই), জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) ২১শে আগষ্ট হামলায় জঙ্গি সংগঠন হুজির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো।
তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট জমা দেয়া হয়। ২০১২ সালের মার্চে, ট্রাইব্যুনালে তারেকসহ ৫২ জন আসামিকে হত্যা মামলার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়, যেখানে ৩৮ জনকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অধীনে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
হত্যার ঘটনায় ১১ জন আসামি বিস্ফোরক মামলায় জড়িত ছিল না। এদের মধ্যে তিনজন সাবেক আইজিপি, সাবেক তিন সিআইডি কর্মকর্তা, সাবেক দুই সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ডিউক এবং দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা এটিএম আমিন ও সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার অন্তর্ভুক্ত।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকায় জামায়াত নেতা মুজাহিদের ইতিমধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একইসঙ্গে সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় মুফতি হান্নান ও আরেকজন হুজির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সুতরাং, তাদের নাম ওই মামলা থেকে দেওয়া হয়।
গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বোমা বিস্ফোরণের দুই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বর্তমানে ৪৯ জন অভিযুক্ত এবং অনেকের বিচার হচ্ছে। আটজন এখন জামিনে আছেন, আর তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক, আর সাবেক বিএনপি মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে।

মামলার কার্যধারা

২০১২ সালের মার্চ মাসে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এর মধ্যে ২২৫ জন বাদী পক্ষের সাক্ষী এবং ২০ জন বিবাদী পক্ষের সাক্ষী কার্যধারার সময় সাক্ষ্য দেন। বাদী ও বিবাদী পক্ষ একসঙ্গে মোট ১১৩টি কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক শেষ করে, যা গত বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছিল। বাদী পক্ষ ২৫ দিন সময় নেয় আর বিবাদী পক্ষ ৮৮ দিন সময় নেয়।

খালেদা জিয়ার ভূমিকা

বাংলাদেশের মাটিতে নিন্দাজনক হামলার ঘটনার পর খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে নিজের সত্যিকারের পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি সংসদে সংসদে হাস্যরস করে মন্তব্য করেছিলেন : ‘কে তাকে হত্যা করতে চায়?’ এবং আরও বলেছিলেন যে শেখ হাসিনা তার নিজের ভ্যানিটি ব্যাগে করে জনসভায় গ্রেনেড নিয়ে এসেছিলেন। এ সময় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে মতামতের একটি পুনরাবৃত্তিমূলক বিষয় ছিল। তারা বলেছিল আওয়ামী লীগ বিদেশে সহানুভূতি অর্জনের জন্যই নিজের লোকদের ওপর হামলা চালায়।
খালেদা জিয়ার আরো একটি বিতর্কিত ভূমিকার স্পষ্ট প্রকাশ পায়, যখন ২১ আগস্ট হামলার তদন্ত করার জন্য খালেদা জিয়াকে তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান রুমী খালেদা জিয়াকে জিজ্ঞেস করেছিলেন কিন্তু খালেদা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি যদি এটি নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না যে তিনি সরাসরি এতে জড়িত ছিলেন, অন্তত এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের বিষয় ছিল যে খালেদা জিয়া জানতেন যে তারেক রহমান ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন। আর এ কারণেই তিনি তার পুত্রকে আগে বাঁচাতে চেয়েছিলেন, তারপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকারের দিকে দৃষ্টি দেন।

গ্রেনেড হামলা মামলার রায়

২০০৪ সালের একুশ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলা, যে হামলায় ২৪ জন নিহত হয় এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ৩০০ লোক আহত হয়। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী মিসেস আইভি রহমান অন্যতম, যিনি বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী।
২০০৪ সালের সারাদেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২১ আগস্ট বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে বিকেল পাঁচটায় পৌঁছালে, একটি ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে তিনি কুড়ি মিনিটের বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতে থাকেন। ঠিক এমন সময় শুরু হয় মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন এবং পরে হাসপাতালে আরও ১২ জন নিহত হন।
এ ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক জিয়া, চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি হান্নান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে অন্য মামলায় মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায়, তিনজন ছাড়াই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

আসামিরা

ওই ঘটনায় হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, ঘটনায় সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একটি মামলা যাতে আসামি সংখ্যা মোট ৫২ জন (ইতিমধ্যে অন্য মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এখন আসামি ৪৯ জন)। একই ঘটনায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে (সংশোধনী-২০০২) অপর একটি মামলায় আসামি সংখ্যা ৩৮জন।
ওই ঘটনায় হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, ঘটনায় সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আনা মামলায় ৫২জন আসামি হচ্ছেন-১. মুফতি আবদুল হান্নান ওরফে আবুল কালাম ওরফে আব্দুল মান্নান (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) ২. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি ৩. শরিফ শাহেদুল আলম বিপুল (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) ৪. মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর ৫. আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল ৬. মো. জাহাঙ্গীর আলম ৭. হাফেজ মাওলানা আবু তাহের ৮. শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল ৯. হোসাইন আহম্মেদ তামিম ১০. আব্দুস সালাম পিন্টু ১১. মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ১২. আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক ১৩. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ১৪. মো. উজ্জল ওরফে রতন ১৫. হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া ১৬. মো. লুৎফুজ্জামান বাবর ১৭. মেজর জেনারেল (অব:) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ১৮. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আব্দুর রহিম ১৯. আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) ২০. মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম ২১. মো. আব্দুল মাজেদ ভাট ২২. আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ২৩. মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে পীর সাহেব ২৪. মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির ২৫. মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, ২৬. অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি মো: আশরাফুল হুদা ২৭. অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি শহুদুল হক ২৮. অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী ২৯. রুহুল আমীন, বিশেষ পুলিশ সুপার (অব:) ৩০. আব্দুর রশিদ অবসরপ্রাপ্ত এএসপি ৩১. মুন্সী আতিকুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত এএসপি ৩২. লে.কমান্ডার সাইফুল ইসলাম ডিউক ৩৩. মাওলানা মো.তাজউদ্দিন ৩৪. মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন ৩৫. আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন ৩৬.মো. খলিল ৩৭. জাহাঙ্গীর আলম বদর ৩৮. মো.ইকবাল ৩৯. আবু বক্কর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার ৪০. লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ৪১. তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া ৪২. হারিছ চৌধুরী ৪৩. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ৪৪. হানিফ পরিবহনের মালিক হানিফ ৪৫. লে.কর্নেল (অব: ) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার ৪৬. মেজর জেনারেল এ,টি,এম, আমিন (এলপি আর) ৪৭. মুফতি শফিকুর রহমান ৪৮. মুফতি আব্দুল হাই ৪৯. রাতুল আহাম্মদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু ৫০. ডিআইজি, খান সাঈদ হাসান ৫১. পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান খান ৫২. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ কমিশনার।
এদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি মো: আশরাফুল হুদা, অবসরপ্রাপ্ত আই,জি,পি শহুদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমীন, বিশেষ পুলিশ সুপার (অব:), আব্দুর রশিদ অবসরপ্রাপ্ত এএসপি , মুন্সী আতিকুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত এএসপি, লে.কমান্ডার সাইফুল ইসলাম ডিউক. লে.কর্নেল (অব:)সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার , মেজর জেনারেল এ,টি,এম, আমিন (এলপি আর), ডিআইজি, খান সাঈদ হাসান ও পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান খানসহ এ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২১ আগস্টের একই ঘটনায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে (সংশোধনী-২০০২) অভিযোগ আনা হয়নি।
আসামিদের মধ্যে ৩৮ জন উভয় মামলায়ই আসামি। এর মধ্যে এখন হত্যা মামলায় ৪৯ জন ও বিষ্ফোরক আইনের মামলায় ৩৮ জন আসামি।

বিচারকার্যক্রম

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সমাবেশে গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত থাকার দায়ে বিএনপি নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি বিশেষ দ্রুত আদালত। রায়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য মামলায় ফাঁসির কারণে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ (মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী (ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলায় মৃত্যুদ- কার্যকর), শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
১০ অক্টোবর ২০১৮ সালে বেলা ১২ টায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন। এই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৪৯ জনকে আসামি করা হয়।
তাদের মধ্যে ৪১ জনের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ শে অগাস্ট শনিবার গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।
সেদিন বিকেলে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে একটি ট্রাকে তৈরি করা অস্থায়ী মঞ্চে দলের প্রধান এবং তখনকার বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা বক্তৃতা শেষ করার পরই গ্রেনেড হামলা হয়।
সেই ঘটনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন, এবং আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী।
ওই হামলার ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়, একটি হত্যা মামলা এবং একটি বিস্ফোরক আইনের মামলা।
মামলায় মোট আসামি ৪৯ জন, এর মধ্যে কারাগারে রয়েছেন ৩১ জন, এবং তারেক রহমানসহ ১৮জন আসামি পলাতক রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী দিয়েছেন ২২৫ জন মানুষ। অন্যদিকে, আসামি পক্ষে সাক্ষী দিয়েছেন ২০ জন। মামলা দুটির বিচারকাজ এ বছরের ১৮ই সেপ্টেম্বর বিচারিক আদালতে শেষ হয়েছে।
গ্রেনেড হামলার সময় এবং তারপরের তদন্ত নিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় প্রশ্ন উঠেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে।
জজ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে গ্রেনেড হামলার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল সেসময়ে।
২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই হামলার ঘটনায় পুনরায় তদন্ত হয়।
সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন হরকাতুল-জিহাদ-আল-ইসলাম নেতা মুফতি আবদুল হান্নান এবং তৎকালীন বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর নাম আসে।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে পুনরায় তদন্ত শুরু হয়।
ঐ তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপি’র অন্যতম শীর্ষ নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এবং পুলিশের সাবেক তিনজন মহাপরিদর্শক বা আইজিপি’র নাম আসে।
বিএনপি অবশ্য ঐ তদন্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক’ বলে বর্ণনা করে।
তদন্তে বেরিয়ে আসে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালানো হয়েছিল।
হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড এসেছিল পাকিস্তান থেকে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন:

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন, জঙ্গিনেতা মাওলানা মো. তাজউদ্দীন, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এ ১৯ আসামিকে আবার ১৯৮০ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৪ ও ৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছর কারাদণ্ড ও আরও জরিমানা ৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন

শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল (উপস্থিত)
মাওলানা আবদুর রউফ ওরফের আবু ওমর আবু হোমাইরা ওরফে পীরসাহেব (উপস্থিত)
মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির (উপস্থিত)
আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক (উপস্থিত)
হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া (উপস্থিত)
আবু বকর ওরফে হাফে সেলিম হাওলাদার (উপস্থিত)
মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (উপস্থিত)
মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক)
আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক)
মো. খলিল (পলাতক)
জাহাঙ্গীর আলম বদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর (পলাতক)
মো. ইকবাল (পলাতক)
লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক)
তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক)
হারিছ চৌধুরী (পলাতক)
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক)
মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক)
মুফতি আবদুল হাই (পলাতক)
রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)।
দণ্ডপ্রাপ্ত এ ১৯ আসামিকে যাবজ্জীবন ছাড়াও ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৩ ও ৪ ধারায় সাব্যস্ত করে আরও ২০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।