ট্রাম্প মিথ্যাবাদী, তার কোনো নীতিই নেই: বড় বোন ব্যারি

দেশের বাহিরের ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বড় বোন মেরিঅ্যান ব্যারি ঘরোয়া আলাপচারিতায় ভাইকে ‘মিথ্যাবাদী’ ও ‘বখে যাওয়া ছোঁড়া’ বলেছিলেন বলে সম্প্রতি প্রকাশিত বেশ কয়েকটি অডিও রেকর্ড থেকে জানা গেছে।
ভাতিজি মেরি ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপে সাবেক ফেডারেল বিচারক ব্যারি বলেছিলেন, তার ভাই ট্রাম্প এমন ‘মিথ্যাবাদী যার কোনো নীতিই নেই’।
ফুপুর সঙ্গে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে হওয়া ওই কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করেছিলেন মেরি।
শনিবার রাতে ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনে রেকর্ডগুলো প্রকাশ করে বলে বিদেশী গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এসব রেকর্ডে ব্যারিকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কার্যকলাপের ব্যাপক সমালোচনা করতে শোনা গেছে।
“তার সেসব টুইট আর মিথ্যা বলা, ওহ ঈশ্বর। আমি খোলামেলা ভাবেই বলছি, কিন্তু তুমি জানো। যেভাবে গল্প বদলায়। কোনো প্রস্তুতি থাকে না। মিথ্যা বলে,” রেকর্ডিংগুলোর একটিতে ট্রাম্পকে নিয়ে বড় বোনের মুখ থেকে এমন সব কথাই বেরিয়ে আসে।
ট্রাম্পের ভাতিজি মেরি সম্প্রতি চাচাকে নিয়ে ‘টু মাচ অ্যান্ড নেভার এনাফ: হাউ মাই ফ্যামিলি ক্রিয়েটেড দ্য ওয়ার্ল্ড’স মোস্ট ডেঞ্জারাস ম্যান’ নামের একটি বই লিখেছেন। তবে ওই বইতে ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যারির পর্যবেক্ষণগুলো নেই।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্পের বিষয়ে ফুপুর সঙ্গে মুখোমুখি আলাপচারিতা গোপনে রেকর্ড করেছিলেন মেরি। তিনিই সম্প্রতি ১৫ ঘণ্টার ওই রেকর্ডিংয়ের অংশবিশেষ ও প্রতিলিপি ওয়াশিংটন পোস্টকে সরবরাহ করেন।
ভাতিজির সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ব্যারি কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে ট্রাম্পের ‘জালিয়াতি’ প্রসঙ্গেও বলেন। ট্রাম্পের হয়ে অন্য একজন স্যাট (স্ট্যান্ডার্ডাইজড কলেজ অ্যাডমিশন টেস্ট) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল বলে মেরির বইতে অভিযোগ করা হয়েছে।
“সে এক বছর ফোর্ডহ্যামে ছিল, তারপরই সে পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটিতে যায়, কেননা কেউ তার হয়ে পরীক্ষাগুলো দিয়েছিল। স্যাট বা ওইরকম কিছু। এটাই আমি বিশ্বাস করি,” প্রকাশিত রেকর্ডিংয়ের একটিতে বলেছেন ব্যারি।
ট্রাম্পের এ বোন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেলে বেঞ্চের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ট্রাম্প সেসময় তার আইনজীবী রয় কোনকে বলেছিলেন, যেন তিনি বেশি বেশি নারী বিচারক নিয়োগের আহ্বান জানান রিগান। এর মাধ্যমে বোনের নিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ‘সহায়তা’ করেছিলেন বলে এক রেকর্ডে বলেছেন ব্যারি। পরে একসময় বড় বোনের কাছে এ নিয়ে ‘কৃতিত্বও জাহির’ করেছিলেন ট্রাম্প। বলেছিলেন, “আমি না হলে তুমি কোথায় থাকতে?”।
ব্যারিও অবশ্য ছেড়ে কথা বলেননি। ছোট ভাইকে সাবধান করে তিনি বলেছিলেন, “আরেকবার এ কথা বললে আমি তোমাকে সমান করে ফেলব।”
অন্য এক রেকর্ডে ব্যারি ছোট ভাই ট্রাম্পকে ‘বখে যাওয়া ছোঁড়া’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প ‘পড়ে না’ বলেও মন্তব্য করেন আরেক রেকর্ডে।
ভাই প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ব্যারিকে কখনোই প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমালোচনা করতে দেখা যায়নি। তবে গত চার বছর ধরে তার কার্যকলাপ যে বড় বোনকে মোটেও সন্তুষ্ট করেনি, রেকর্ডগুলো থেকেই তা বোঝা যাচ্ছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, তারা ওয়েবসাইটে দেয়নি এমন এক অডিওতে ব্যারি মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে চাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ছেলে-মেয়েদেরকে তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন।
“তার কোনো নীতিই নেই। নেই, নেই। আর তার ভিত্তি, আমি বলি কি- যদি তুমি ধার্মিক লোক হও, তাহলে তুমি মানুষকে সাহায্য করতে চাইবে। (ট্রাম্প যা করছে) এগুলো না,” ভাতিজির সঙ্গে আলাপচারিতায় এমনটিই বলেছিলেন ব্যারি। অবশ্য ট্রাম্প এসব বিষয় পাত্তা দিচ্ছেন না বলেই জানানো হয়েছে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্রের দেওয়া বিবৃতিতে।
“প্রতিদিনই অন্যরকম কিছু হয়, কে এত পাত্তা দেয়,” বলেছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি তার সদ্য মৃত ছোট ভাই রবার্ট ট্রাম্পের কথাও স্মরণ করেছেন।
“আমি আমার ভাইকে মিস করি, এবং আমি মার্কিন জনগণের জন্য কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত রাখব। সবাই আমার সঙ্গে একমত হবে না, কিন্তু ফলেই বোঝা যাবে। আমাদের দেশ শিগগিরই আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হবে,” বলেছেন ট্রাম্প।
ভাতিজি মেরির ‘টু মাচ-নেভার এনাফ: হাউ মাই ফ্যামিলি ক্রিয়েটেড দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট ডেঞ্জারাস ম্যান’ নামের বইটির প্রকাশ আটকাতে বেশ কিছুদিন আদালতে ছুটোছুটি করেছিলেন রবার্ট ট্রাম্প, যদিও তাতে লাভ হয়নি। চলতি মাসের মাঝামাঝি নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে রবার্টের মৃত্যু হয়।