রাজধানীতে অগ্রিম ছাড়াও ভাড়া দিতে আগ্রহী বাড়িওয়ালারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীতে করোনাভাইরাসে ছন্দ পতন দেখা দিয়েছে বাসাভাড়া নিয়ে। কাজের সুবাদে যারা ভাড়ায় থাকতেন, চলমান পরিস্থিতিতে তারা চলে গেছেন গ্রামে। কয়েক মাস ধরে ফাঁকা পড়ে আছে অনেক ফ্ল্যাট। এখন পর্যন্তও মিলছে না ভাড়াটিয়া। এমন পরিস্থিতিতে অগ্রিম ছাড়াও বাড়িভাড়া দিতে আগ্রহী অনেক বাড়িওয়ালারা। শুধু রাজধানী নয় এর আশপাশের বাড়িওয়ালারাও পড়েছেন ভাড়াটিয়া সংকটে। সাভার থেকে শুরু করে টঙ্গী, কেরানীগঞ্জের মতো এলাকাতেও এর প্রভাব পড়েছে।
এমনই একজন বাড়ির মালিক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী জহিদ আনোয়ার। রাজধানী তুরাগের বাউনিয়া এলাকায় প্রায় ২০ বছর আগের তৈরি বাড়িতে ভাড়াটিয়ার খোঁজে কোনোদিনও ঝুলানো হয়নি টু-লেট। কিন্তু করোনার শুরু থেকে টু-লেট ঝুলিয়ে সেটি এখনো রাখা হয়েছে ভবনটির গেটে।
জাহিদ আনোয়ার বলেন, করোনার কারণে গার্মেন্টস বন্ধের পথে। শ্রমিকের বেতন দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখন শেষ সম্বল বাড়িভাড়া। সেটিতেও পড়েছে ভাটা। তিনটি ফ্ল্যাট তিনমাস ধরে ফাঁকা রয়েছে। অগ্রিম ছাড়াও বাড়িভাড়া দিতে চাইলেও মিলছে না ভাড়াটিয়া। রাজধানীর উত্তরা, খিলখেত, বাড্ডা, বসুন্ধরা, রামপুরা, বারিধারা, গুলশান, বনানী, মহাখালী, মিরপুর, ডিওএইচএসসহ প্রায় সবখানেই এমন চিত্র দেখা গেছে। দেয়ালে এবং গাছে ঝুলছে বাড়ি ভাড়ার একমাত্র হাতিয়ার টু-লেট। শুধু বাসার গেটের সামনেই নয় লিফলেট আকারে প্রিন্ট করে বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞাপন দিয়েও মিলছে না ভাড়াটিয়া। বেশি টাকায় ভাড়া হবে না যেনে অনেক বাড়িওয়ালা যৌথ পরিবার ভাড়া দেয়া হবে বলে ঝুলিয়েছেন চমৎকার টু-লেট বিজ্ঞাপন। ভাড়াটিয়া খুঁজে না পেয়ে আবার অনেক বাড়িওয়ালা বর্তমানে অগ্রিম ছাড়া এবং ভাড়া কমিয়ে খুঁজছে ভাড়াটিয়া। অনেকে আবার পুরোনো ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া রাখছেন।
রাজধানী খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এ বসবাসরত ব্যাচেলর সফিকুল ইসলাম রাসেল বলেন, করোনাকালীন সময় আমাদের রুমমেট না থাকায় বাসা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। তবে বতর্মান পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়িওয়ালা কিছুটা ভাড়া কমিয়ে দিয়েছেন। তাই এখন আমরা সে বাসাতেই আছি।
অপরদিকে রাজধানী তুরাগের বাউনিয়ায় চারতলা বাসার তিনটি ফ্ল্যাট গত চার মাস ধরে ফাঁকা। ওই ফ্ল্যাটে থাকা মানুষগুলো চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে গ্রামে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এরপর থেকে আর কোনো ভাড়াটিয়া আসেনি। ভাড়াটিয়া সংকটের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। দেখা দিয়েছে মানুষের শ্রেণি কাঠামোর পরিবর্তন। ফলে বকেয়া ভাড়ার চাপ নিতে পারছেন না তারা। সে জন্য স্বপ্নের ঢাকা ছেড়ে যেতে হচ্ছে তাদের।
ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহরানে সুলতান বাহার জানান, করোনায় চাকরি হারা হয়ে বাড়িভাড়ার জন্য বহু মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। আমরা প্রথম থেকেই সরকারের অনুরোধ জানিয়ে আসছি, নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য কিছুটা হলেও বাড়ি ভাড়া, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করার জন্য।
অন্যদিকে, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশনের এক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার ৮০ শতাংশ বাড়িওয়ালা বাড়িভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। বাড়িই যেহেতু তাদের ব্যবসা, তাই বিভিন্ন বিল ও করের ঊর্ধ্বগতি সাপেক্ষে তারা বছরে গড়ে ৯ শতাংশ ভাড়া বাড়ান। ৭৫ শতাংশ বাড়িওয়ালা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে বাড়ি বানিয়ে থাকেন। বাড়ি ভাড়া ছাড়া সাধারণত তাদের অন্য কোনো আয়ের উৎস থাকে না। তাই ঋণের কিস্তি পরিশোধ কিংবা সংসার চালানোর তাগিদে ভাড়া হাতে পাওয়া তার জন্য জরুরি হয়ে পড়ে। তাই ইচ্ছে না থাকলেও বাধ্য হয়ে ভাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।