উত্তরা পশ্চিম থানায় প্রতারক সাহেদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। এছাড়া করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩ কোটি ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ারও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাহেদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে সিআইডি। মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সিআইডি বাদী হয়ে মামলাটি করে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করবে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগ।

সিআইডি বলছে, সাহেদ তার অপকর্মের প্রধান সহযোগী মাসুদ পারভেজের সহযোগিতায় রিজেন্ট ডিসকভারি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের নামে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ঢাকার শাহ মখদুম এভিনিউ শাখায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলেন (হিসাব নং- ০০৬২০২১০০০৫৯৩৫)। হিসাবটি পরিচালনা করতেন সাহেদের বাবা সিরাজুল করিম ও মাসুদ পারভেজ। সিআইডির অনুসন্ধানে অভিযুক্ত সাহেদের অর্জিত সম্পদের প্রধান উৎস প্রতারণা ও জালিয়াতি মর্মে বেরিয়ে আসে। অপরাধলব্ধ আয় লেনদেনের সুবিধার্থে রিজেন্ট হাসপাতাল, রিজেন্ট কে সি এস লিমিটেড ও অন্যান্য অস্তিত্ববিহীন ১২টি প্রতিষ্ঠানের নামে ৪৩টি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করে আসছিলেন সাহেদ।

সাহেদ ও মাসুদ পারভেজ পরস্পর যোগসাজশে ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থে‌কে চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে মোট ১১ কোটি ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৭ টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের মাধ্যমে রূপান্তর এবং ভোগ-বিলাসে অর্থ ব্যয় করার অপরাধে অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম), সিআইডি বাদী হয়ে রাজধানী উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে।

সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি মিডিয়া) জিসানুল হক বলেন, ব্যাংক হিসাবসমূহ খোলার সময় কেওয়াইসি ফরমে প্রতিষ্ঠানসমূহের চেয়ারম্যান বা স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন সাহেদ। প্রতিষ্ঠানসমূহের এমডি মাসুদ পারভেজ অভিযুক্ত সাহেদের পক্ষে হিসাবসমূহ প্রত্যক্ষভাবে পরিচালনা করেছেন, যা সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে উদঘাটিত হয়। হিসাবগুলোর লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নগদ টাকা জমা করা হয়েছে। সাহেদের ৪৩টি ব্যাংক হিসাবে মোট জমা ৯১ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং তার মধ্যে ৯০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তার হিসাবসমূহে বর্তমান স্থিতির পরিমাণ ২ কোটি ৪ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৮০ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে।

অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজের ১৫টি ব্যাংক হিসাবে মোট জমা ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, মোট উত্তোলন করা অর্থের পরিমাণ ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং বর্তমান স্থিতি ৫ হাজার টাকা। প্রতারণা ও জালিয়াতি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ২(শ) (৫) ও (৬) ধারা অনুযায়ী সম্পৃক্ত অপরাধ। এসব অপরাধের অভিযোগে মোহাম্মদ সাহেদ ও সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩০টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, নানা অনিয়ম ও অভিযোগের ভিত্তিতে জুলাইয়ের ৬ তারিখে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। র‌্যাবের অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রথমে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা সিলগালা করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালটির মিরপুর শাখাও সিলগালা করে দেয়া হয়। পরদিন ৭ জুলাই রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই পলাতক ছিলেন সাহেদ। ১৬ জুলাই ছদ্মবেশে ভারতে পালানোর সময় সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।