বঙ্গবন্ধুকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে : নৌপ্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের কোনো অগ্রগতি হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। ইতিহাসকে বাদ দিয়ে পথ চলা যায় না।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্ক করার প্রয়োজন নেই। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তখনই বিতর্ক হয়, যখন বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের লালন-পালন করা হয়। বিতর্ক তখনই হয়, যখন এই খুনিদের পুনর্বাসন করা হয়, যখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়।

‘এই বিতর্ক থেকে যতদিন আমরা বেরিয়ে আসতে পারব না, ততদিনই আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, ৩০ লাখ শহীদদের স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন এখানে বাস্তবায়ন হবে। রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের স্বপ্ন এই বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর প্রতি এটাই আমাদের ওয়াদা থাকবে।’

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু একমাত্র নেতা যিনি একটি রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করেছেন। সে রাজনৈতিক দলকে জনগণের দ্বারে দ্বারে নিয়ে গেছেন। তাদের একই প্ল্যাটফর্মে এনে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন এবং সেই দলের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে। তার নাম আওয়ামী লীগ। এটা পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পাকিস্তানের কায়েদে আজম কিন্তু মুসলিম লীগ সৃষ্টি করেননি। তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন। মহাত্মা গান্ধী কিন্তু কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেননি। তিনি কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ সৃষ্টির সঙ্গে ছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তিনি বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন।

বাকশালের সমালোচকারীদের নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, বাকশালকে একটি নেগেটিভ জায়গায় ফেলে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে কথা বলা হয়, যেগুলো কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বাকশালের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ একা ছিল না। তদানীন্তন যত রাজনৈতিক দল ছিল সবাই সেখানে গিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের সু-সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনা আগলে রাখতেন। আজ আমাদের দায়িত্ব বাংলাদেশকে আগলে রাখার। গণমাধ্যম এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান সরদার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, ডিআরইউয়ের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সময়ের আলোর নির্বাহী সম্পাদক শাহনেওয়াজ দুলাল, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ, ডিআরইউয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবীবুর রহমান।