বন্যার প্রভাবে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সবজি ও মরিচের দাম চড়া

অপরিবর্তিত চাল, ডাল, তেল ও মসলার বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বন্যার প্রভাবে প্রায় দুই মাস ধরেই ঊর্ধ্বমুখী সবজির বাজার। প্রতিনিয়ত বাড়ছে দাম। পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ না থাকায় তা আবারও সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে। সবজিভেদে কেজিতে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ধনিয়া পাতার দাম। কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি রাখা হচ্ছে দাম।

শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) সকালে রাজধানীর কয়েকটি কাঁচা বাজারে এমন এ চিত্র দেখা যায়।

এছাড়া বাড়তি দাম রয়েছে শাকের বাজারেও। শাকভেদে প্রতিমোড়ায় দুই থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে অপরিবর্তিত আছে চাল, ডাল, তেল ও মসলার বাজার।

এছাড়া চারটি সবজির কেজি একশ’ টাকা ছুঁয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাকা টমেটো, গাজর, বেগুন ও করলা। বাকি সবজিগুলোর বেশিরভাগ একশ টাকার কাছাকাছি। এর মধ্যে বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পাকা টমেটো। বাজার ও মান ভেদে পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা। এর পরেই রয়েছে গাজর। মান ভেদে গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা। করলা (ছোট) বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন। তবে বড় করলা ৭০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে।

সবজির এমন চড়া দামের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বন্যা এবং ভারী বৃষ্টিপাতে সারাদেশে সবজির উৎপাদন কমে গেছে। যার প্রভাবে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। আর টমেটো ও গাজরের এখন মৌসুম না। এ কারণে এই দুই সবজির দাম সবচেয়ে বেশি।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী রাহাত বলেন, মৌসুম না হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই এখন পাকা টমেটো ও গাজরের দাম বেশি। এর সঙ্গে বন্যা ও বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। সে কারণে অন্যান্য সবজির দামও কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মান ভেদে প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৯০ টাকা। পাশাপাশি চিচিঙ্গা ৫০-৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০-৭০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা, কাকরোল ৬০-৭০ টাকা, কচুর মুখি ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ধুন্দুল ৬০-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ঝিঙা। লাউয়ের পিস ৬০-৭০ টাকা, চাল কুমড়োর জালির পিস ৪০-৫০ টাকা, পেঁপের কেজি ৪০-৪৫ টাকা এবং কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা। এর সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আলু ও কাঁচা মরিচ। এক কেজি আলুর দাম জন্য ৩৫-৩৮ টাকা। আর কাঁচা মরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।

শেওড়াপাড়ার ব্যবসায়ী কলিমউল্লাহ বলেন, বন্যা ও পানি সরাদেশের সবজি খেত নষ্ট করে দিয়েছে। অনেক সবজির গাছ পানিতে পঁচে গেছে। সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে কাঁচা মরিচের খেতের। অর্ধেকের বেশি মরিচের খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণেই সবজি ও মরিচের দাম চড়া। সবজির এই চড়া দামের মধ্যে নতুন করে দাম বেড়েছে ডিমের। বাজার ভেদে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকা।

এদিকে সবজির চড়া দামের মধ্যে কিছুটা কমে পাওয়া যাচ্ছে ব্রয়লার মুরগি ও ইলিশ মাছ। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকার মধ্যে। অপরদিকে এক কেজির ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়। ৭৫০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭৫০ টাকা কেজি দরে।

ব্রয়লার মুরগি ও ইলিশের দাম কিছুটা কম হলেও সবজির চড়া দাম ক্রেতাদের মুখের হাসি কেঁড়ে নিয়েছে। পীরেরবাগ বাজারে সবজি কিনতে আসা আমিরুল বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কম হলে কী হবে, সবজি কিনতে গেলেই পকেটের টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মাছ, মাংস কিনবো কী করে?

তিনি আরো বলেন, করোনার কারণে মানুষ এখন জীবন বাঁচানো নিয়ে ব্যস্ত। আমার মতো অনেকের আয় কমে গেছে। অথচ এ পরিস্থিতিতে সব ধরনের পণ্যের দাম চড়া। আমরা যে কত কষ্টে আছি; বলে বোঝানো যাবে না।

শেওড়াপাড়া বাজারে সবজি কিনতে আসা জাফর সাদিক বলেন, শুধু আজ না অনেক দিন ধরেই সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৫০ টাকার নিচে সবজি মিলছে না। এক পোয়া কাঁচা মরিচ কিনতে ৫০ টাকার বেশি লাগছে। জিনিসপত্রের এমন চড়া দামের কারণে আমাদের মত নিম্ন আয়ের মানুষ অনেক কষ্টে রয়েছে। কতদিন এই পরিস্থিতি থাকবে তা আল্লাহ জানে।