‘জনসন অ্যান্ড জনসন এর বেবি ট্যালকম পাউডারে ক্যান্সারের উপাদান অ্যাসবেস্টসের উপস্থিতি’

নিজস্ব প্রতিবেদক: জনসন অ্যান্ড জনসন বেবি ট্যালকম পাউডারে অ্যাসবেস্টস এর উপাদান রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করা দরকার। এ ব্যাপারে ৩১ অগাস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে “গ্লোবাল অ্যাকশন উইক” পালিত হচ্ছে, এসডো তার ইপর জোর দিচ্ছে । এসডো এ নিয়ে আজ ৫ই সেপ্টেম্বর, ১১টা থেকে ১২:৩০ পর্যন্ত অনলাইন প্লাটফর্ম জুম এ মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানিয়েছন সংগঠনটি।

 

ইউএসএ, কানাডার মত উন্নত দেশগুলিতে জনসন অ্যান্ড জনসন বেবি পাউডার নিষিদ্ধ করা স্বত্ত্বেও বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কার মত উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এখনো এসব পণ্য আমদানী ও বিক্রি চলছে।

অনলাইন প্লাটফর্ম জুম এ মিডিয়া ব্রিফিংয়ের এক অংশ

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সিটিউট-বিএসটিআই এর ক্যামিকাল ডিভিশানের সাবেক চেয়ারম্যান এবং এসডো’র টেকনিক্যাল উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আবুল হোসেন, বিএসটিআই এর উপ-পরিচালক জোহরা শিকদার, বিএসটিআই এর ক্যামিকাল ডিভিশানের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নূর নবী; ড. মো. শাফিউর রাহমান, সহকারী অধ্যাপক, পেশাগত ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগ, নিপসন; এসডো’র মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা সহ এসডো’র অন্যান্য সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

ইউএসএ এবং কানাডা জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানী’র বেবি পাউডারে অ্যাসবেস্টস নামক ক্যান্সারের উপাদান উপস্থিতির কারণে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে এখনো এ বিষয়ে যথেষ্ট পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই । সেই সাথে বাংলাদেশ যথেষ্ট ভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা করার আহবান জানান এই সভায়। বাংলাদেশে যথেষ্ট পরীক্ষাগার সুব্যবস্থা নেই যেখানে এসব পণ্য বা দেশী পণ্য পরীক্ষা করা সম্ভব। পরীক্ষা করতে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশের সাহায্য নিচ্ছে যেখানে এইসব পণ্যের পরীক্ষা করা যায়।

আলোচনায় ড. আবুল হোসেন জানান যে, “বাসেল কনভেনশনের যে সদস্য দেশগুলি অ্যাসবেস্টসযুক্ত পণ্য আমদানী নিষিদ্ধের দাবী জানায়, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। যদিও বাংলাদেশের “আমদানী নীতিমালা”র অধীনে যে রাসায়নিক উপাদানের তালিকা রয়েছে, তাতে অ্যাসবেস্টসযুক্ত পণ্য অর্ন্তভূক্ত নেই। বাংলাদেশ সরকার ও কর্তৃপক্ষকে বর্তমান পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সাথে দেখার আহবান জানান।”

জোহরা শিকদার বলেন, “জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানীর প্রসাধনী’র বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বিএসটিআইকে তাদের বেবি প্রোডাক্টগুলি পরীক্ষা করা উচিত এবং স্থানীয় কোন ট্যালকম পাউডারের সাথে জনজন অ্যান্ড জনসন বেবি পাউডারের উপাদানের মান তুলনা করে দেখা উচিত বলে মত দেন। অন্যদিকে, অ্যাসবেস্টস-এর আমদানী ও বিক্রি বন্ধে অ্যাসবেস্টসযুক্ত পণ্য “আমদানী নীতিমালা’য় সংযুক্তি-৩ এর আওতায় আনারও জোড় দাবি জানিয়েছেন ।”

এসডো’র নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা জানান, “বর্তমান মহামারী পরিস্থিতি বিশ্বকে প্রায় নিশ্চল করে দিয়েছে। কিন্তু এসডো এসব ট্যালকম পাউডার আসলেই বিষাক্ত কি না তা জানতে, এবং ল্যাব পরীক্ষার ব্যাপারে সরকার যাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয় সে চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।”