কৃষি উন্নয়নে দেশে কাজু বাদাম চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা

রফতানি হতে পারে বছরে ৯ হাজার কোটি টাকা

জোনায়েদ মানসুর:
কাজু বাদাম একটি দারুণ সম্ভাবনাময় ও অর্থকরী ফসল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বৃক্ষ জাতীয় ফলের মধ্যে এর স্থান তৃতীয় আর বাদাম জাতীয় ফসলে প্রথম স্থানে রয়েছে। পুষ্টি গুণাগুণের বিবেচনায় এ বাদামকে সুপার ফুড বলা হয়। বাংলাদেশে কাজু বাদামের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আগামীতে এই ফসলটি হতে পারে দেশের অন্যতম রফতানি পণ্য।

এ খাতের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিন পার্বত্য জেলায়- বান্দরবান রাঙামাটি, খাগড়াছড়িতে কমপক্ষে পাঁচ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি হিসেবে পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে পার্বত্য অঞ্চলের দুই লাখ হেক্টর জমিতে কাজু বাদাম আবাদ করলে বছরে ১৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় করা সম্ভব, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ কোটি গাছ রোপণ করে ২ লাখ হেক্টর জমি এ ফসল চাষের আওতায় আনার চিন্তা করছে সরকার। এতে করে উৎপাদন হবে প্রায় ১০ লাখ মে.টন কাজু বাদাম, যার বাজার মূল্য ২৬ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন, কাজুবাদামে বছরে ৯ হাজার কোটি টাকা রফতানির সম্ভাবনা দেখছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা। শুল্কবৈষম্য দূর ও শুল্ক ফাঁকি রোধ এবং নীতি সহায়তা পেলে আগামী চার বছরেই এই স্বপ্ন পূরণের ছক এঁকে ফেলেছেন তারা। রফতানিতে এই বিশাল সম্ভাবনা দেখে মুগ্ধ হয়ে সরকারের কৃষি, অর্থ ও পরিকল্পনা এই তিন মন্ত্রণালয় একে বাস্তব রূপ দিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। সরকারের ওই যৌথ উদ্যোগে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারাও।
জানা গেছে, ২০১৫-১৮ সাল পর্যন্ত প্রণয়ন করা রফতানি নীতিমালায় কাজু বাদামকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে চাষিদের উৎপাদন ও রফতানিতে উৎসাহ প্রদান, সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও তথ্য দিয়ে সহায়তা করার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়। সে আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও কাজু বাদামে কৃষি ঋণ বিতরণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা ও উৎসাহ দিচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের কৃষিনীতি অনুযায়ী, এখন কাজু বাদাম চাষেও ঋণ দিবে ব্যাংকগুলো।
লক্ষ্যমাত্রা: ২০২১ সালের মধ্যে কাজুবাজাম লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ হাজার মে.টন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ কোটি গাছ রোপণ করে ২ লাখ হেক্টর জমি এ ফসল চাষের আওতায় আনা হবে। এতে করে উৎপাদন হবে প্রায় ১০ লাখ মে. টন কাজু বাদাম যার বাজার মূল্য ২৬ হাজার কোটি টাকা। লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, টাঙ্গাইল, শেরপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং বরেন্দ্র এলাকায় কাজু বাদাম চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।
কাজু বাদাম নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস বিজনেস প্রোমশন কাউন্সিল (এপিবিপিসি) ও বাংলাদেশ অর্গানিক প্রোডাক্টস্ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিওপিএমএ) কাজ করছে। বিওপিএমএ সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, ‘কাজু বাদাম চাষে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে বেসরকারিভাবে কাজু বাদাম উৎপাদন করে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে ৬০০ মিলিয়ন ডলার রফতানি আয় করা সম্ভব হবে।’
সম্ভানাময় এ খাতে সরকারের নজর এসেছে বলে জানা গেছে। অর্থ, পরিকল্পনা ও কৃষি মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে বলে সম্প্রতি আশ্বাস পাওয়া গেছে।
এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে প্রতি বছর সাকল্যে মাত্র দুই হাজার টন কাজু বাদাম উৎপাদন হয়। যদিও বাংলাদেশে দশ লাখ হেক্টর কাজু বাদাম চাষ উপযোগী জমি রয়েছে। এটি করতে পারলে বাংলাদেশের কাজুবাদামের উৎপাদন দশ লাখ টনে দাঁড়াবে। তবে এজন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে এ মন্ত্রণালয়টি।
এক গবেষণায় জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কা উপকূলীয় এলাকার মতো বাংলাদেশেও কাজু বাদাম চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। কাজু গাছ বালু মাটিতে কিছুুটা লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। তবে জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। উৎপাদিত কাজু বাদাম প্রক্রিয়াজাত করতে দেশে কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে মাঝারি আকারে কাজু বাদামের চাষ হচ্ছে। অনাবাদি জমিতে পরিকল্পিতভাবে কাজুবাদাম চাষের যথেষ্ট সুযোগ আছে। ভবিষ্যতে খাগড়াছড়ির কৃষিপণ্যের মধ্যে কাজু বাদামও একটি বিশেষ স্থান করে নিতে পারে। খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, হর্টিকালচার সেন্টার খেজুরবাগান, সেনানিবাস, হর্টিকালচার সেন্টার নারানখাইয়া, পানখাইয়া পাড়া, কমলছড়ি ও জামতলী এলাকায় কাজু বাদামের গাছ চোখে পড়ে। এ ছাড়া, রামগড় উপজেলার হর্টিকালচার সেন্টারেও রয়েছে কাজু বাদামের বাগান।
সফলতা: নেচারাল রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনআরডিপি) দীর্ঘদিন নিজ খরচে পার্বত্য অঞ্চলে তিন জেলায় কাজু বাদাম চাষ এবং চাষের উন্নয়নে কাজ করছে। তারা দেখেছে, প্রতি হেক্টরে দেড় থেকে দুই মেট্রিকটন এ বাদামের ফলন হয়।
কাজু বাদামে সফলতা পেয়েছেন চট্টগ্রামের এ খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তা ক্যাশিউ প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাকিল আহমেদ তানভীর। সম্প্রতি তিন মন্ত্রীকে পার্বত্য জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কাজু বাদামের বাগান করার কথাও জানান তিনি। শাকিল আহমেদ তানভীর বলেন, ‘২০২৪ সালের মধ্যে বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমাদের বছরে চার লাখ ৪৪ হাজার টন কাজুবাদাম প্রয়োজন হবে। এই মুহূর্তে দেশে উৎপাদিত হচ্ছে বছরে দেড় হাজার টন। উৎপাদন না বাড়া পর্যন্ত বাকি কাজুবাদাম কাঁচা আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হবে। তিনি জানান, কাঁচা কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্কবৈষম্য দূর করা, বাণিজ্যিক আমদানিতে শুল্ক ফাঁকি রোধ এবং রপ্তানিতে নীতি সহায়তা দিতে সরকারের তিন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। সেটি নিশ্চিত হলে ২০২৪ সালের মধ্যেই এক বিলিয়ন ডলার রফতানি করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, তাদের স্বপ্ন ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম কাজুবাদাম রফতানিকারক দেশ হওয়া।
কাজুবাদামের আবাদ নিয়ে কথা হয় বান্দবান জেলার থানচি সদরের রুংবেত পাড়ার তাইতং ম্রো ও মাংলো ম্রো এ সঙ্গে। তারা জানান, ২০১৮ সালে ৮০ ও ১০০ মণেরও বেশি কাজু বাদাম বিক্রি করেছেন। ২০১৯ সালে আরও বেশি বিক্রি করেছন।
ভালো দাম পাওয়ায় বাগান সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছেন রুমার বটতলীপাড়ার আগ্যমং মারমা, রনিনপাড়ার লাল লুংয়ান বম ও রোয়াংছড়ির সোয়ানলুপাড়ার লালচুয়ান বম ও লালহুম বম।
বান্দরবানের রুমা উপজেলার মুনলাইপাড়ার কারবারি লিয়ান আং ২০১৫ সালে ১০০ মণ কাজুবাদাম ফলিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন। লিয়ান একা নন, তার পাড়ার ৫৩টি পরিবারে সবাই কম-বেশি কাজুবাদাম চাষের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়াই চাষ করায় এই কৃষিপণ্য থেকে তারা কাক্সিক্ষত আয় পাচ্ছেন না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে বান্দরবান উপপরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ আলতাফ হোসেন বলেন, তারা প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে সরকারের আরও সহযোগিতার প্রয়োজন।
বাংলাদেশ চাষাবাদ: বাংলাদেশে কাজু বাদাম চাষের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, প্রায় ৩০-৪০ বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং উদ্যান উন্নয়ন বিভাগ (কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ) সমন্বয়ে পার্বত্য এলাকায় কৃষকদের উন্নয়নের জন্য প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ফলের চারা/কলমের সঙ্গে কাজু বাদামের চারা সরবরাহ করে থাকে। ২০১৪ সাল থেকে বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাশাপাশি থানচি, রোয়াংছড়ি ও সদর উপজেলা, খাগড়াছড়ি এবং রাঙ্গামাটিতে কাজুবাদাম চাষ হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে এটির চাষ হচ্ছে। নিজস্ব চারা থেকে উৎপাদিত গাছ হতে উৎপন্ন বাদামে তারা লাভবান হচ্ছেন ওখানকার চাষিরা।
উপকূলে সম্ভাবনা : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় উপকূলীয় অঞ্চলে কাজু বাদাম চাষের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ওখানকার কৃষি গবেষকদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কাজু বাদাম চাষে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অ্যাগ্রোটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি গাছ লাগাই। আমরা দেখেছি, উপকূলীয় এলাকায় কাজু বাদামের প্রচুর ফলন হয়।’
পাহাড়ের কাজু বাদাম এখন জমিতে : দেশে প্রথম কাজু বাদাম হত পাহাড়ী এলাকায়। অন্য কোথাও তেমন দেখা যেত না। তাই সবাই এটাকে পাহাড়ি ফল হিসাবে মেনে নিয়েছিল কিন্তু উৎসাহী কিছু গাছ প্রেমিক নিজের জমিতে এনে যত্ন করে লাগিয়ে ফল পেতে শুরু করেছেন। তার মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলায় কটিয়াদি বাগানবাড়ির সত্ত্বাধিকারী মো. মুজিবর রহমান একজন। তিনি কাজুর চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। এখন তিনি দেশের নানাস্থানে কাজুর চারা প্রেরণ করছেন।
রোপণ: বীজ এবং কলম উভয় পদ্ধতিতেই কাজু বাদামের বংশ বিস্তার করা যায়। কলমের মধ্যে গুটি কলম, জোড় কলম, চোখ কলম ইত্যাদি প্রধান। কাজু বাদাম গাছ ৬০-৭০ বছর পর্যন্ত বাঁচে এবং ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বীজ থেকে পলি ব্যাগে চারা তৈরি করে কিংবা কলম প্রস্তুত করে জমিতে রোপণ করতে হয়। চারা রোপণের আগে ৭-৮ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে ১ ঘনমিটার আয়তনের গর্ত তৈরি করতে হয়। গর্তে সবুজ সার এবং পরিমাণমত ইউরিয়া ও টিএসপি সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ১৫ দিন পর চারা লাগাতে হয়। চারা গজালে একটি সতেজ চারা রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হয়। বীজের পরিবর্তে চারা তৈরি করে নিয়েও রোপণ করা যায়। হেক্টর প্রতি প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা ২৪৫-৩৩৫টি।
সার ব্যবস্থাপনা: কাজু বাদাম গাছে খুব একটা সার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ভাল ফলনের জন্য প্রতি ফলন্ত গাছে গোবর-৪০ কেজি, ইউরিয়া- ১ কেজি, টি.এস.পি.-১ কেজি এবং এম.পি.সার ১ কেজি প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া পাতা শোষক পোকা ও পাতা কাটা পোকা প্রভৃতি কাজু বাদামের ক্ষতি সাধন করে। তাই পরিমিত পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগ করে কীটপতঙ্গ দমন করা যায়।
উৎপত্তি স্থল: ১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামার হাত ধরে উপমহাদেশে এন্ট্রি ঘটে কাজু বাদামের। তারপর থেকে ছড়িয়ে পড়ে এর স্বাদের সুখ্যাতি। এখন তো দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকা মহাদেশের একাধিক দেশে এই বাদামটির চাষ হয়ে থাকে। তবে, কাজু বাদামের উৎপত্তি স্থল ব্রাজিল। বর্তমানে প্রধানত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত, কেনিয়া, মোজাম্বিক, তানজানিয়া, মাদাগাস্কার প্রভৃতি দেশে কাজু বাদাম উৎপাদিত হয়ে থাকে। ভিয়েতনাম ১৯৮৮ সালে কাজুবাদাম চাষ শুরু করে এবং ১৯৯৮ সালে বাণিজ্যিক চাষে গিয়ে আজ উৎপাদন, প্রোসেসিং এবং রপ্তানিতে ১ নম্বরে চলে গেছে। বাংলাদেশও আন্তরিক হলে, কাজুবাদাম উৎপাদনে সহজেই ২য় স্থান দখল সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
কাজুর তথ্য: কাজু বাদাম ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে ক্যাশিউ নাট। কাজু গাছ (বৈজ্ঞানিক নাম Anacardium occidentale; প্রতিশব্দ Anacardium curatellifolium A.St.-Hil.) সপুষ্পক অ্যানাকার্ডিয়েসি পরিবারের বৃক্ষ। বীজ থেকে চারা তৈরি করা হয়। বেলে দো আশঁ মাটি অথবা পাহাড়ের ঢালে ভাল জন্মে। পূর্ণবয়স্ক কাজু বাদাম গাছ ১০ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। শীতের শেষ দিকে ও বসন্তে ফুল আসে। বর্ষায় ফল সংগ্রহ করা যায়। রোপণের পর গাছের বয়স তিন বছর হলে প্রথম ফুল এবং ফল আসে। কাজু বাদামের দৈর্ঘ্য ৪ থেকে ৫ সেন্টিমিটার। এর ওজন ৫ থেকে ২০ গ্রাম হয়ে থাকে। সাধারণত একটি গাছ থেকে ৫০-৬০ কেজি ফলন পাওয়া যায়। ১ কেজি ফল প্রক্রিয়াজাত করে তা থেকে গড়ে ২৫০ গ্রাম কাজু বাদাম পাওয়া যায়। জাতভেদে ফলনের তারতম্য হয়ে থাকে।