মিয়ানমারে সেনাপ্রধানের সভাপতিত্বে প্রথম বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এটিভি সংবাদ 

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মঙ্গলবার প্রথম বৈঠক করেছেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। নভেম্বরের নির্বাচনে জালিয়াতি নিয়ে সু চির সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয় সু চির দল এনএলডি। এটি প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে এসেছে সেনাবাহিনী।

বৈঠকে জেনারেল মিং অং হ্লাইং সামরিক শাসন অপরিহার্য ছিল উল্লেখ করে বলেন, ‘বহুবার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। সে কারণেই আমরা এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হলাম।’

অভ্যুত্থানের কারণে সংসদ বসার সুযোগ পায়নি। অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সাফাই গাইলেন সেনাপ্রধান। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিল গঠিনের পর মন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলসহ কয়েকটি পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছে জান্তা। এতে বর্তমান ও সাবেক সেনাকর্তারা প্রাধান্য পেয়েছেন।

জেনারেল হ্লাইং নিয়েছেন স্টেট লিডারের পদ। অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে মিয়ন্ট সোয়েকে। তিনি সুপ্রিমকোর্টের সাবেক আইনজীবী, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইয়াঙ্গুনের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সোয়ে টুটকে। তিনি মিয়ানমার গোয়েন্দা সংস্থার সামরিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সময় থেকে কর্মরত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সামরিক বাহিনীর সদস্য ও সাবেক কুটনীতিক উন্না মং লুইংকে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বানানো হয়েছে জেনারেল মিয়া তুন ও’কে। হ্লাইংয়ের পর জেনারেল মিয়া তুন সামরিক বাহিনীর প্রধান হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে তিনি সামরিক বাহিনীর উচ্চপদে কর্মরত। সামরিক প্রশাসনের শীর্ষ এ কর্তারা মিয়ানমারে ক্ষমতাধর হিসাবে পরিচিত।

এদিকে সংসদ সদস্যদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পার্লামেন্ট ভবন ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। পার্লামেন্ট ভবন ছেড়ে যেতে না চাইলেও পরে নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় এমপিদের।