প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক, এটিভি সংবাদ 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেহেতু মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে সেহেতু প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি বাড়াতে হবে।

যেসব প্রকল্প সমাপ্ত করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো অবশ্যই শেষ করতে হবে। এছাড়া প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প এলাকায় থাকতে হবে। একজন প্রকল্প পরিচালকের হাতে যাতে একটির বেশি প্রকল্পের দায়িত্ব না থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই বৈঠকে চলতি অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

মূল এডিপি থেকে বৈদেশিক অংশের ৭ হাজার ৫০১ কোটি ৭৯ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৪ কোটি ৭৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭০ হাজার ৫০১ কোটি ৭২ হাজার টাকা।

বৈঠকে কোভিড-১৯ মহামারি প্রেক্ষাপটে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে মানুষের কাছে নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক জোগান নিশ্চিত করতে সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। করোনার ভ্যাকসিন আরও আনতে হবে। এজন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে।’

বৈঠক শেষে এনইসি সম্মেলন কক্ষে ব্রিফ করেন পরিকল্পনা সচিব জয়নুল বারী। এ সময় বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনা সচিব জানান, আগামী অর্থবছর থেকে এডিপি তৈরি, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাজেট বরাদ্দ এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ১৫টি সেক্টর ধরে হিসাব করা হবে।

বর্তমানে এডিপি তৈরি হয় ১৭টি সেক্টর ধরে, অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট বরাদ্দ দেয় ১৪টি এবং জিইডি হিসাব করে ১৩টি সেক্টর ধরে। ফলে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বেশ জটিলতার সৃষ্টি হয়। এটি নিরসনে আজ প্রধানমন্ত্রী ১৫টি সেক্টর অনুমোদন করেছেন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সংশোধিত এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া সেক্টর হলো পরিবহণ সেক্টর। এই সেক্টর বরাদ্দ পেয়েছে ৪৯ হাজার ২১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ সেক্টরে ২৬ হাজার ৪৯১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষা ও ধর্ম সেক্টরে মোট ২৪ হাজার ৫৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এছাড়া বিদ্যুৎ সেক্টরে বরাদ্দ ২১ হাজার ৯৪৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ২৮৯ কোটি ৭০ হাজার টাকা। স্বাস্থ্য, পুষ্টি জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ সেক্টরে ১৪ হাজার ৯২১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। বিজ্ঞান, তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তি সেক্টরে ১১ হাজার ৫৭৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। কৃষি সেক্টরে সাত হাজার ৭৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। পানিসম্পদ সেক্টরে ছয় হাজার ৭০৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং শিল্প সেক্টরে তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত মোট প্রকল্পের সংখ্যা এক হাজার ৭৮৫টি। এর মধ্যে নতুন অনুমোদিত ১৭২টি এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপি থেকে বাদ পড়া ২৮টি প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ১০১টি প্রকল্প সংশোধিত এডিপিতে আলাদা তালিকা হিসাবে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশোধিত এডিপি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৫ মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ৯ হাজার ৯৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মূল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ২৪ হাজার ৪৯৬ কোটি ১২ লাখ টাকা।

এখন সেটি কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে প্রস্তাব করা হয়েছে ১৫ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলো হলো- পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প।