বসুরহাট পৌর ভবন ঘিরে রেখেছে পুলিশ, ভেতরে কাদের মির্জা

নোয়াখালী প্রতিনিধি, এটিভি সংবাদ 

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা গ্রেপ্তার হতে পারেন এ রকম একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে নোয়াখালীতে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সে রকম কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে পৌরসভা ভবনে অবস্থান করছেন কাদের মির্জা। সঙ্গে আছেন কয়েকজন নেতা-কর্মী। আর বাইরে পৌরসভা ভবনের চারপাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

সন্ধ্যার দিকে কাদের মির্জার স্ত্রী আক্তার জাহান বকুল স্বামীর ব্যবহারিক কিছু জামা-কাপড়সহ একটি ব্যাগ নিয়ে সেখানে যান। সন্ধ্যার পর একজন আইনজীবীও কাদের মির্জার সঙ্গে দেখা করে পৌর ভবন থেকে বের হন। এ নিয়ে মির্জা কাদেরের অনুসারী নেতা-কর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এর আগে বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও যুবলীগ কর্মী আলাউদ্দিন (৩২) নিহতের ঘটনায় মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যা মামলার আবেদন করা হয়েছে।

এ মামলায় কাদের মির্জার ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন ও ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাসিকসহ ১৬৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে এজাহার থেকে প্রধান আসামি কাদের মির্জাকে বাদ দেওয়াসহ কিছু ত্রুটির থাকা কথা বলে পুলিশ সেটি গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে বসুরহাটের পরিস্থিতি বেশ থমথমে। বসুরহাটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে তিন শতাধিক পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্য। পুলিশের দাবি, বসুরহাটে এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, কোনো ধরনের সমস্যা নেই।

বসুরহাট পৌর এলাকার জিরো পয়েন্টে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু চত্বর, রূপালী চত্বর, উপজেলা গেট, কলেজ গেট ও উত্তর বাজার এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাবের সতর্ক অবস্থান রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলকে গ্রেপ্তার করে সাদা পোশাকের পুলিশ। প্রথমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও সন্ধ্যার পরে গণমাধ্যমকর্মীদের মিজানুর রহমান বাদলের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন।

গত মঙ্গলবার (৯মার্চ) বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় আলাউদ্দিন নিহত হন। হাসপাতালে এসে নিহত আলাউদ্দিনকে নিজের সমর্থক দাবি করেন মিজানুর রহমান বাদল। সংঘর্ষে ওসি মীর জাহিদুল হক রনি ও পাঁচ পুলিশসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন অন্তত ১০ জন।