সামনে বাংলাদেশের সোনালি ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, এটিভি সংবাদ 

সুবর্ণজয়ন্তীর দুয়ারে দাঁড়ানো বাংলাদেশের সামনে সোনালি ভবিষ্যতের হাতছানি বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৭ মার্চ) বিকেলে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

‘ভেঙেছ দুয়ার, এসেছে জ্যোতির্ময়’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বুধবার (১৭ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর প্যারেড স্কয়ারে ‘মুজিব চিরন্তন’ শীর্ষক ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়। এর আগে বুধবার (১৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছান।

বাংলাদেশ যে অবস্থানে পৌঁছেছে সেখান থেকে সহজে নামানো যাবে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “এখন শুধু আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা, পিছনে ফিরে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “সকল বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে এ দেশকে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শোষণ-বঞ্চনামুক্ত, ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবোই, ইনশাআল্লাহ।”

উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ বিরোধী অপশক্তি এখনও দেশে-বিদেশে সক্রিয় রয়েছে। তারা নানা অপতৎপরতার মাধ্যমে এ অর্জনকে নস্যাৎ করতে চায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের শুভ জন্মদিনে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সকল অপতৎপরতা প্রতিহত করে প্রিয় মাতৃভূমিকে উন্নয়ন-অগ্রগতির পথ ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের মাথাপিছু আয় সম্মানজনক দুই হাজার মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে; দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে; দেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে; মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। আর্থ-সামজিক সূচকে বাংলাদেশ প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেছে।”

১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “অনেক স্বপ্ন ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। বাংলাদেশকে তিনি উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট তাকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত আমরা দেশে এবং বিদেশে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। আজ তার সূচনাপর্ব। তবে আমাদের উৎসব ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতে থাকবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর প্যারেড স্কয়ারে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সালিহ্।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার হাতে ‘মুজিব চিরন্তন’ স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির স্ত্রী রাশিদা খানম, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ফাজনা আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানাসহ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শিশু শিল্পীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর শিশু শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন। সংগীত পরিবেশনার পর চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউশিহিদে সুগারের ধারণকৃত ভিডিওবার্তা প্রচার করা হয়।

এরপর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ্। এরপর প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।