অপ্রত্যাশিত প্রয়াণে গভীর বেদনার সুর!

অপ্রত্যাশিত প্রয়াণে গভীর বেদনার সুর!

অনুপম রায়
নির্মলেন্দু বিশ্বাস নিমাই আমাদের ছোটমামা, হাস্যোজ্জ্বল এক চরিত্রের নাম। যারাই তাঁকে চেনেন বা জানতেন সকলের কাছেই তাঁর চিরচেনা স্মিত হাসিময় মুখটিই ধরা আছে। আমি নিশ্চিত এর কোন ব্যতিক্রম নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন নিজের বিভাগ বা জগন্নাথ হল সর্বত্রই তাঁর হাসিমাখা মুখটি ঘুরে ফিরতো।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-মহাপরিচালক থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া মামা আমার করোনাকালীন বাসাতেই থাকতেন। ঠাট্টা করে বলতেন “আমি তো বন্দী জীবন” কাটাচ্ছি – বাজারেও যেতে দেয় না।
আমি বলেছি ভালোই তো মামা- সাবধানে থাকাই তো দরকার। কিন্তু শেষ রক্ষা তো হলোনা। সেই মহামারি করোনাই আপনাকে জীবন থেকে কেড়ে নিয়ে গেলো। তবে আপনার চলে যাওয়াটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত- অসুস্থ তো কতজনেই হচ্ছে। আপনিও তেমনই ছিলেন-আইসিইউ পেতে একটু দেরী হলো। এতেই কি অভিমান করে জীবন থেকে বেরিয়ে গেলেন?
ছোট্টবেলা থেকেই আপনাকে দেখে আসছি-সেই প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সবটাই আমার দেখা। এতোটা অভিমান আপনার কখনও দেখিনি। ক’দিন আগে বাড়ি ঘুরে এলেন, বাড়ির প্রতিটি আনাচ-কানাচ দেখে আনন্দের কাদামাটি গায়ে মেখে ফিরে এলেন ঢাকা। বাড়ি গেলে এতোটা খুঁটিনাটি তো আপনি এর আগে দেখেন নি?
তবে কি মামা আপনি জানতেন করোনা ভাইরাসের জীবনবিনাশী ছোবল আপনাকে আর রামদিয়া আসতে দেবে না-সময় আপনার অত্যাসন্ন?
জীবন থেকে আপনি হারিয়ে গেলেও জীবনসংগীতে আপনার হাস্যোময় মুখের জয়গান ধ্বনিত হবে অবিরাম।
পরপারে ভালো থাকুন মামা এ কামনা সবসময়।