আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সঠিক ভূমিকায় থাকতে হবে নির্বাচন কমিশনকে

এস এম জামান, এটিভি সংবাদ 

আগামী ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। এদিন ৩৭১টি ইউপি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ৩৭১টি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ১ হাজার ৭৫২ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৯ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী, যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। বাকি ৬৫৩ জন আওয়ামী লীগসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী।

উল্লেখ্য, বিএনপিসহ নিবন্ধিত বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেয়নি। তবে বিএনপির অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে কোনো কোনো স্থানে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘাত-সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। বাগেরহাটের শরণখোলা ও চিতলমারী এবং বরগুনার বেতাগীতে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৬৫ জন।

ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘর্ষের প্রধান কারণ বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নির্বাচনে বড় দল হিসাবে বিএনপি দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছে না, শাসক দল আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করায় সৃষ্টি হয়েছে সমস্যা। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতরাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তাদের অনেকেই পছন্দের প্রার্থী হিসাবে সমর্থন দিচ্ছেন দলের অনেক প্রভাবশালী নেতা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মন্ত্রী-এমপিরাও।

বিদ্রোহী প্রার্থীরা শাসক দলের হওয়ায় অর্থ ও সামাজিক শক্তিতে বলীয়ান, ফলে দলের মূল প্রার্থীর সঙ্গে তাদের সংঘাত হচ্ছে।

ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে সংঘাত-সংঘর্ষ খুব সাধারণ ঘটনা। অতীতের এই ধারাবাহিকতায় এবারও সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ব্যাপকতা লাভ করতে পারে, এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। দুঃখজনক হলো, ইউপি নির্বাচনে সংঘাত-সংঘর্ষ রোধ করতে নির্বাচন কমিশনকে তেমন ভূমিকা নিতে দেখা যায় না। শুধু তাই নয়, সংঘাত-সংঘর্ষ ঘটার পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, কমিশন তা-ও নেয় না।

এবার অবশ্য ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। আমরা দেখতে চাই, নির্বাচন কমিশনের এ বক্তব্য বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হয়। আমাদের কথা হলো, শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলেই হবে না, কোনো জায়গায় সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয় কথা, ঝুঁকিপূর্ণ ও সংঘাতপ্রবণ ইউনিয়ন পরিষদগুলো চিহ্নিত করে সেসব জায়গায় নিতে হবে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। আমরা ইউপি নির্বাচন সহিংসতামুক্ত দেখতে চাই। একইসঙ্গে বলব, নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়াও যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।