নৌপথে মৃত্যুঝুঁকি, দুর্ঘটনারোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

এস এম জামান, এটিভি সংবাদ 

কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীতে ছোট বড় শত শত নৌযান চলাচলের বিষয়টি উদ্বেগজনক। জানা গেছে, এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে সাত রুটে চলাচলকারী অর্ধশতেরও বেশি যাত্রীবাহী লঞ্চ চালাচ্ছেন সুকানি ও গ্রিজাররা। পাশাপাশি এসব নদীতে এক হাজারেরও বেশি বালুবাহী বাল্কহেডের অবাধ চলাচল রয়েছে।

উপরন্তু অদক্ষ শিশুদের দিয়ে চালানো হচ্ছে ট্রলার, যেগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন নদী পার হচ্ছেন কয়েক লাখ মানুষ। সব মিলিয়ে উল্লিখিত তিন নৌপথ দিন দিন মানুষের চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছে একটি চক্র।

ফলে অনেক ব্যবসায়ী এ রুটে আধুনিক মানসম্পন্ন নতুন লঞ্চ চালাতে আগ্রহী হলেও সিন্ডিকেটের বাধার মুখে তা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে মান্ধাতা আমলের লঞ্চেই মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে নৌপথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা, যার অবসান হওয়া উচিত।

এক সময় নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের ঐতিহ্য ও গৌরব ছিল উপমহাদেশজুড়ে। তখন এ বন্দর থেকে কলকাতা পর্যন্ত স্টিমার ও বিশালাকৃতির সাম্পান চলাচল করলেও বর্তমানে সেই নারায়ণগঞ্জ থেকে সাতটি রুটে জোড়াতালি দিয়ে চলাচল করছে ৭০টি লঞ্চ। এসব লঞ্চ বালুবাহী বাল্কহেড ও মালবাহী ট্রলারের কাছে অনেকটাই জিম্মি।

সন্ধ্যার পর বাল্কহেড চলাচলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ফলে প্রায়ই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ ধরনের অনিয়মের কারণেই সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চ ডুবে ৩৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ওই দুর্ঘটনার মূল হোতা এসকেএল-৩ কার্গোটি জব্দ ও এর চালকসহ ১৪ জনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, যাত্রীবাহী লঞ্চটিকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়ার পর কার্গোটি দ্রুত স্থানান্তরে চলে গিয়েছিল। কেউ যাতে চিনতে না পারে, সেজন্য কার্গোটি নতুন রঙে সজ্জিত করাই শুধু নয়, এর নামও মুছে ফেলা হয়েছিল। ঘাতক কার্গোর আটকের বিষয়টি স্বস্তিদায়ক। এখন দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটাই কাম্য।

এক গবেষণা প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ নৌযান, মাস্টার-চালক ও ইঞ্জিন অপারেটরের অদক্ষতা, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনসহ দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়ন সম্পর্কে উদাসীন থাকাকে নৌদুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির গণশুনানি ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা আশা করব, তদন্ত কমিটিদ্বয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে নৌপথে মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।