গৃহহীনদের প্রকল্পে অনিয়ম: অবিলম্বে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন

এস এম জামান, এটিভি সংবাদ 

গৃহহীনদের জন্য সরকারি বরাদ্দের বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে টিআর-কাবিটা কর্মসূচির আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ শহরে গৃহহীনদের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৫টি বাড়ি এবং ‘জমি আছে, ঘর নেই, নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ’ কর্মসূচির আওতায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে শল্লায় ১১টি বাড়ি নির্মাণ করে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দের সরকারি বাড়ি পেয়েছেন বিত্তশালী ও স্বচ্ছল ব্যক্তিরা। এসব বাড়িতে গৃহহীনরা থাকেন ঠিকই; তবে ভাড়াটিয়া হিসাবে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে ভূমি বাণিজ্যের। কম মূল্যের এসব ধানী জমি প্লট হিসাবে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে যেগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এর ফলে গৃহহীনদের মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার সরকারের উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এর দায় এড়াতে পারে না।

জানা গেছে, অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তি সেকেন্ড হোম হিসাবে কিনেছে এসব জমি। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এ ভূমি বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি হলো, বাড়ি বরাদ্দ পেতে ভূমিহীনদের নিজের জমি কিনতে বাধ্য করছেন তিনি। এ অভিযোগ সত্য হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। এ ব্যাপারে সরকারের অবিলম্বে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ। দরিদ্র ও অতিদরিদ্রদের সহায়তার জন্য সরকার এ ধরনের নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, দুস্থ-দরিদ্র-অসহায় মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত ও নদীভাঙনকবলিত ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকার প্রথমবারের মতো ১৯৯৭ সালে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণ করে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৯৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭৩টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। এছাড়া সরকার ঘরেফেরা, গৃহায়ণ ইত্যাদি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো-ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল, অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন, ঋণ প্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা এবং আয় বাড়ে এমন কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা।

গত বছর কক্সবাজার জেলায় জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়কেন্দ্র খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম ধাপের উদ্বোধন করা হয়। সেখানে ফ্ল্যাট পেয়েছেন ৬০০টি পরিবার। এছাড়া মুজিববর্ষে দেশের গৃহহীন, ভূমিহীন, দরিদ্র-অসহায় পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বিনামূল্যে ঘর প্রদানের লক্ষ্যে বড় আকারের প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীনে এ কর্মসূচির প্রথম ধাপে সারা দেশে ৬৯ হাজার ৯০৪টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে বসবাসের উপযোগী পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এসব প্রকল্প সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে। দরিদ্রদের জন্য নির্ধারিত এ ধরনের প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম একেবারেই কাম্য নয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে টিআর-কাবিটা ও আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে অনিয়মের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেসবের অবিলম্বে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করি আমরা।