ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জটের আশঙ্কা

নজরুল ইসলাম অভি (চট্রগ্রাম), এটিভি সংবাদ 

চট্টগ্রাম বন্দরে এবারও ঈদের ছুটিতে কনটেইনার জটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইয়ার্ডে বাড়ছে কনটেইনারের সংখ্যা। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইয়ার্ডে কনটেইনার ছিল ৩৬ হাজার ১৪০ টিইইউএস।

রোববার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৯০২ টিইইউএস। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে বেড়েছে দেড় হাজারেরও বেশি। আর এ কারণে কনটেইনারের ডেলিভারি বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনও ইয়ার্ডে অনেক জায়গা রয়েছে। তাছাড়া কলকারখানা খোলা থাকায় আমদানিকারকরা পণ্য ডেলিভারিও নিচ্ছেন। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কনটেইনারের সংখ্যা এখনকার চেয়ে কিছুটা হয়তো বাড়তে পারে কিন্তু তা ধারণক্ষমতা অতিক্রম করার সম্ভাবনা কম।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে ইয়ার্ডে কনটেইনার ধারণ ক্ষমতা ৪৯ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের)। এর বিপরীতে স্বাভাবিক সময়ে ৩০-৩৫ হাজার টিইইউএস কনটেইনার থাকে। হরতাল, ধর্মঘট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দুই ঈদের ছুটতে প্রায়ই ধারণক্ষমতা ছুঁয়ে যায়। কনটেইনারের সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার কাছাকাছি গেলে অথবা অতিক্রম করলে জাহাজ থেকে নতুন পণ্য নামিয়ে রাখার জায়গা থাকে না। আবার কনটেইনার নাড়াচাড়া করা কিংবা ট্রেইলারে তুলতেও অসুবিধার হয়। কিছু কনটেইনার খুলে ভেতরে থাকা পণ্য ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানেও পরিবহণ করা হয়। এজন্য ফাঁকা জায়গার প্রয়োজন পড়ে। কনটেইনার বেড়ে গেলে ফাঁকা জায়গা কমে যায়। এতে ব্যাহত হয় বন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্ম। স্বাভাবিক হ্যান্ডলিংয়ের জন্য যে কোনো বন্দরে কনটেইনার ধারণ ক্ষমতার ৩০ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়। এই হিসাবে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৪-৩৫ হাজার কনটেইনার থাকলে তাকে স্বাভাবিক হিসাবে ধরা হয়। এর বেশি হলে তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ মিডিয়াকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে কনটেইনার জটের একটা শঙ্কা থাকে। তবে এবার পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বেশ আগেভাগেই নানা পরিকল্পনা নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থাগুলো যদি বন্দরের পরিকল্পনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, তাহলে বড় ধরনের জট হওয়ার কথা নয়। আর যদি না পারে তাহলে সেক্ষেত্রে জট সৃষ্টি হতে পারে। বন্দরের পাশাপাশি পণ্য আমদানি ও ডেলিভারি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানিকারক, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, অফডক, কাস্টম, ব্যাংককে ভূমিকা রাখতে হবে।

ছুটির সময় এসব প্রতিষ্ঠানের তৎপরতা স্বাভাবিক সময়ের মতোই থাকতে হবে। পণ্য ডেলিভারির ক্লিয়ারেন্স দেয় কাস্টম। কিন্তু চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে লোকবলের সংকট রয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোরও অভাব। কাস্টম হাউজে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োজিত থাকতে হবে। যেসব পণ্য ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, আমদানিকারকদের তা দ্রুত নিয়ে যেতে হবে। সব প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে হবে সমানতালে।’

ঈদের ছুটিতে কনটেইনার জট এড়াতে ২৯ এপ্রিল বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে, ঈদের দিন শুধু ৮ ঘণ্টা বন্দরের কাজ বন্ধ থাকবে। এছাড়া অন্য সময় পণ্য খালাস, জাহাজে তোলা ও ডেলিভারি চলবে। কাস্টম, অফডক, ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ঈদের সময় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে, যেন আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা টাকা জমা দেয়াসহ ডকুমেন্টেশনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, এখনো আমাদের যে জায়গা আছে, তাতে আরও ১০-১২ হাজার কনটেইনার রাখা যাবে। এবার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কলকারখানা খোলা থাকা এবং আমাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আমদানিকারকরা কনটেইনার ডেলিভারি নিচ্ছেন। তাই সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জটের আশঙ্কা নেই। স্বাভাবিক সময়ের মতো প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কনটেইনার ডেলিভারি হচ্ছে। তবে শুক্র ও শনিবারসহ যে কোনো ছুটির দিনে এমনিতেই ডেলিভারি কিছুটা কম হয়। ছুটির পরদিন থেকে আবার ডেলিভারি বাড়তে থাকে। এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।