মুক্তিপণ আদায়ে বাবার সঙ্গে অপহরণ নাটক, অতঃপর আটক

নওগাঁ প্রতিনিধি, এটিভি সংবাদ 

নওগাঁয় অপহরণের নাটক সাজিয়ে বাবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে ছেলে রাসেল রানা। এ ঘটনায় তার বাবা সিদ্দিকুর রহমান বদলগাছী থানায় একটি অভিযোগ করেন।

বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মাঠে নেমে ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে রাসেল রানা (২৮) ও ফয়সাল আহম্মেদ ফাহিমকে (২২) আটক করে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া তার অফিসের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, জেলার বদলগাছী উপজেলার গোয়ালভিটা গ্রামের সিদ্দিক রহমানের বড় ছেলে রাসেল রানা। গত ৯ মে সকাল ১০টায় ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। এরপর ১১ মে পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ না পেয়ে অবশেষে বদলগাছী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন সিদ্দিকুর রহমান।

এরই মধ্যে রাসেল রানা তার ছোট ভাইকে ফোন করে জানায় বিকাশের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা না পাঠালে তাকে মেরে ফেলা হবে। এভাবে টাকা চেয়ে বার বার ফোন করে। এরপর বদলগাছী এবং পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।

বুধবার রাত ১টার দিকে অপহৃত রাসেলকে বদলগাছীর পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছন থেকে উদ্ধার করা হয়। তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে জয়পুরহাট জেলা সদর থেকে ঘটনার মুল হোতা ফয়সাল আহম্মেদ ফাহিমকে আটক করা হয়। তার বাড়ি বদলগাছী, সে রনাহার গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।

এসপি বলেন, আটকের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণ নাটকের তথ্য বেরিয়ে আসে। উপজেলার রামপুর গ্রামের নাজমুল হোসেনের বাড়ি থেকে রাসেল রানা, ফয়সাল আহম্মেদ ফাহিম ও সাখাওয়াত হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন অপহরণের নাটক সাজিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে। ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, যুবক রাসেল রানা মাদকাসক্ত এবং একজন চিহ্নিত জুয়ারি। এসব কারণে সংসারে বেশ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ঋণ পরিশোধের তেমন কোনো উপায় ছিল না রাসেলের। ফলে পাওনাদারদের নিকট অপদস্থ হতে থাকে। বন্ধুদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় অন্তরালে গিয়ে তার অপহরণের নাটক সাজিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।