নেত্রকোনায় ভুল চিকিৎসায় স্তন কেটে ফেলা সেই শেফালির মৃত্যু!

নেত্রকোনা প্রতিনিধি, এটিভি সংবাদ

অর্থ আর শিক্ষা সংকটে গ্রামে ভুয়া চিকিৎসকের খপ্পরে পড়েছিলেন চার সন্তানের জননী ভিক্ষুক শেফালি বেগম (৩৭)। বুকের বামপাশের স্তনে সামান্য ব্যথা নিয়ে গ্রামের ভুয়া চিকিৎসক মানিক মিয়ার কাছে গিয়েছিলেন চিকিৎসা নিতে। তারপর ওই হাতুড়ে চিকিৎসক ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলেন স্তনের অর্ধেক অংশ। কাটা অংশে কিছু দিনের মধ্যেই ধরে পচন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচহাট গ্রামে অসহায় বিধবা নারী শেফালী আক্তার (৩৭)। স্তনে ব্যথা নিয়ে যান গ্রামের হাতুড়ে চিকিৎসক মানিক মিয়ার কাছে। সে সময় ওই অভিযুক্ত চিকিৎসক শেফালিকে স্তন ক্যান্সার হয়েছে বলে জানায়। ক্যান্সার সাড়িয়ে তুলতে ২০ হাজার টাকায় অপারেশনের চুক্তি করে।

স্থানীয় পাঁচহাট বাজারের ওষুধ বিক্রেতা (ইকবাল হোমিও ফার্মেসি) ভিতরে ২০১৯ সালের ৭ মে অপারেশনের নামে ব্লেড কেটে ফেলা হয় স্তনের অর্ধেক অংশ! এরপর ধীরে ধীরে শেফালির শারীরিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন শুরু হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই স্তনের কাটা অংশে পচন ধরে যায়। টাকা পয়সা না থাকায় বিনা চিকিৎসায় ধুঁকতে থাকে শেফালি।

অপরদিকে জেলা পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসীর নির্দেশে ভুয়া ডাক্তার মানিককে আটকও করা হয়। পাঠানো হয় জেলা হাজতে।

বাড়িতে যাবার আগেই নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন থেকে করা হয় আর্থিক সহযোগিতা। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই স্তনের ক্ষত স্থানে আবারো পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়! চলতে থাকে নতুন করে চিকিৎসা। করোনা শুরু থেকে ঘটে চিকিৎসায় ব্যাঘাত।

অবশেষে ধুঁকতে ধুঁকতে বুধবার দিবাগত রাতে নিজ গ্রামের বাড়ি খালিয়াজুরীর পাঁচহাট গ্রামে মারা যান শেফালি। তার মৃত্যুর খবরে রাতেই ছুটে যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম আরিফুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার জানাজায় করেন অংশগ্রহণ তিনি।

এ সময় গাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আতাউর রহমান, স্থানীয় প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক মহসিন ও সাবেক সভাপতি শফিকসহ শেফালির প্রতিবেশীরাও এতে অংশ নেন।

খালিয়াজুরী থানার তখনকার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক জানান, ভুয়া চিকিৎসায় শেফালির স্তন কাটার ঘটনায় নামধারী চিকিৎসক মানিক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। ভুয়া চিকিৎসক মানিক পার্শ্ববর্তী মদন উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের কাতলা গ্রামের আমির উদ্দিন তালুকদারের ছেলে।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম আরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর থেকেই উপজেলা প্রশাসন ও ব্যক্তি উদ্যোগে শেফালির পাশে ছিলেন। গত এই দুই তিন বছরে শেফালির পিছনে খাবারদাবার ও আনুষঙ্গিক খরচে ব্যয় করা হয়েছে কয়েক লক্ষাধিক টাকা। এছাড়াও তার থাকার ভালো কোনো ঘর ছিল না। সে ক্ষেত্রে তাকে নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে আধপাকা একটি ঘর। নামাজে জানাজায় এসেও এবার শেফালির মেয়ে তৃষাকে দেয়া হয়েছে আর্থিক সহায়তার নগদ কিছু অর্থ।