শাজাহান খানকে নেতা-কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন শাহাবুদ্দিন মোল্লা

শফিক স্বপন, এটিভি সংবাদ

শাজাহান খান দলীয় শৃক্সখলা ভেঙ্গে জামাত-শিবির সাথে নিয়ে আওয়ামীলীগকেবিতর্কিত করার জন্যে দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন মাদারীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা।

তিনি বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে রাজৈর পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে এ আহবান জানান।

শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা বলেন, ‘শাজাহান খানের পিতাকে নিয়ে আমার দেয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর উত্তাল। কিন্তু আমি যে কথা বলেছি, তার কোন ব্যাখ্যা নেই তাদের কাছে।

অথচ আমাকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে হেয় করা হচ্ছে। আপনি যদি মনে করেন আমি ভুল বলেছি, আপনি সেটা আওয়ামীলীগের দলীয় ফ্রোমে ব্যাখ্যা চাইতে পারতেন।

অথচ সেটা না করে জামাত-শিবির, স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপির ছেলে-পেলে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রট নাচ্ছেন। আপনি যেটা করেছেন, তার জন্যে আজ হোক বা কাল হোক আপনাকে মাদারীপুর আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

শাজাহান খানকে উদ্দেশ্য করে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা আরো বলেন, ‘আপনি আপনার বাবার নির্দেশ না মেনে জাসদ করেছিলেন। অথচ আমরা যারা আপনার বাবার কর্মী ছিলাম, তারা ঠিকি তার নির্দেশ মেনে আওয়ামীলীগ করেছি।

যে বাবার নির্দেশ মেনে আপনি রাজনীতি করতে পারেননি, তার জন্যে আজ আমাকে কটুক্তি করছেন। আমি যতি আপানার বিরুদ্ধে বলা শুরু করি, তাহলে পালানোর সুযোগও পাবেন না।

রাজৈর পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর কমিটির আহবায়ক আব্দুস কুদ্দুস মিয়া। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য সেকান্দার আলী শেখ, দেলোয়ার হোসেন দিলীপ, আল-আমীন মোল্লা, রাজৈর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জমির খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বক্কর, রাজৈর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক বাবুল, পৌর মেয়র নাজমা রশিদ প্রমুখ।

এর আগে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে কেন্দুয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সোহবান হোসেন সর্দারের মার্কেট ভাংচুরের প্রতিবাদে জেলা আওয়ামীলীগ, উপজেলা আওয়ামীগীল, শেচ্ছাসেবকলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন মানববন্ধন করেন।

শেষে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ, ইসরাত হোসেন উজ্জ্বল, যুবলীগের সভাপতি আতাহার সর্দার, ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন অনিক, সাধারণ সম্পাদক বায়েজিত হাওলাদার প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মে রাজৈর উপজেলার শান্তি নিকেতন কেন্দ্রে ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মোল্লা মুক্তিযোদ্ধা আছমত আলী খানের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা নিয়ে একটি বক্তব্য দেন। শাহাবুদ্দিন মোল্লার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিবাদ হচ্ছে।