আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ছে বিদেশীরা!

জালাল উদ্দিন চৌধুরী, এটিভি সংবাদ 

আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এদেশে সাম্রাজ্য গড়ে তুলছে বিদেশীরা। রাজধানীসহ সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটে আছে হাজারো  বিদেশী নাগরিকরা। ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও অবৈধভাবে থাকছে এসব বিদেশীরা। ধর্ষণ, মাদক, অস্ত্র সরবরাহ, জঙ্গী সম্পৃক্ততা, জুয়া ও প্রতারণার মাধ্যমে তারা আমাদের দেশে অপরাধের নেটওয়ার্ক তৈরি করছে।

ভালো চাকরি দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিকের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সড়কের একটি রেস্ট হাউসে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রসন্ন গমিজকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ম্যানেজার। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ দিকে নিপীড়নের শিকার তরুণ এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম বাবুল এটিভি সংবাদকে বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সেদিন ম্যানেজারের কক্ষে ওই তরুণকে ধর্ষণ করা হয়। এ মামলার তদন্ত চলছে।

ভুক্তভোগীর মা ও মামলার বাদী, এটিভি সংবাদকে জানান, একটি কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন তিনি। ১০ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। অভাব-অনটনের কারণে তিনি ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করাতে পারেননি। তার বড় ছেলে কোরআনের হাফেজ। গত বছরের ১ নভেম্বর ওই ছেলে গুলশানের একটি নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। প্রতিষ্ঠানটি তাকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সড়কের একটি ভবনে দায়িত্ব দেয়। আটতলা ভবনের ৭ম তলায় ইউরোপ টেক্স ফ্যাশন লিমিটেডের গেস্ট হাউস রয়েছে। সেখানেই থাকতেন প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি ম্যানেজার প্রসন্ন গমিজ। গমিজ নিরাপত্তাকর্মী ওই তরুণের সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

এক পর্যায়ে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা চান। ধার-দেনা করে গত ২০ এপ্রিল তাকে ৬০ হাজার টাকা দেন ভুক্তভোগী। তবে টাকা নিলেও চাকরি দেননি। পরদিন তিনি ওই তরুণকে ভবনের ছাদে নিয়ে বিকৃত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তরুণ তখন পালিয়ে চলে আসেন। এরপর গত ২৬ মে ভোর ৪টার দিকে ওই তরুণ দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় প্রসন্ন গমিজ তাকে নিচতলায় রেস্ট হাউসের ম্যানেজারের কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। তার চিৎকারে অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী ও ম্যানেজার গিয়ে তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করেন।

লজ্জায় চাকরি ছেড়ে বাসায় ফিরে যান তরুণ। পরে ইউরোপ টেক্সের কয়েক কর্মকর্তা গিয়ে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। বাদীর দাবি, ঘটনার পর তিনি মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে গড়িমসি করে। পরে ১৯ জুন তার মামলা নেয় উত্তরা-পশ্চিম থানা। এরপর ওই রাতেই প্রসন্ন গমিজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান বাদী।

এদিকে ঘটনার প্রায় এক মাস পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি ভুক্তভোগী তরুণ। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি আর কোনো কাজে যোগ দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না। লোকজন দেখলেই ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছেন। তিনি সহজ-সরল গোছের মানুষ। ধর্ষণের ঘটনাটি তার মনোজগতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।