ঘাটাইলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের তীব্র সংকট

সৈয়দ মিঠুন, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি, এটিভি সংবাদ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় এক সপ্তাহ ধরে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। ফার্মেসির মালিকরা বলছেন, কোম্পানিগুলো সরবরাহ কম করছে। ফার্মেসিগুলোতে যে মজুত আছে, তা দিয়ে এক দিনও চলবে না। সারা দেশে কঠোর লকডাউন শুরু হলে এই সংকট আরও বাড়তে পারে বলে ওষুধ ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ওষুধ ব্যবসায়ীরা জানান, করোনা সংক্রমণ ও মৌসুমি জ্বর-ঠান্ডার কারণে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ও সিরাপের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। সারাদেশে লকডাউনের ঘোষণা শুনে অনেকেই ঘরে রেখে দেওয়ার জন্য ওষুধ কিনে রাখছেন। এর ফলে জরুরি ভিত্তিতে যেসব রোগীর প্যারাসিটামল দরকার হচ্ছে, তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

হাসপাতাল রোডের শাকিল মেডিকেল হলের মালিক হাসান আহম্মেদ তুলা জানান, গত তিন দিনে পাঁচটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের অর্ডার দিয়েও প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ও সিরাপ পাইনি।

ঘাটাইল কলেজ মোড়ে অবস্থিত পায়েল মেডিকেল হল, ধলাপাড়া বাজারের মা মেডিকেল হল, সাগরদীঘি বাজারের তালুকদার ফার্মেসির মালিকেরাও একই কথা জানালেন।

গর্জনা গ্রামের আজহার আলী জানান, ব্যবস্থাপত্র অনুসারে বিশটা প্যারাসিটামল কিনতে গেলে দোকানদার তাকে ছয়টা ট্যাবলেট দিয়েছেন। সরবরাহ না পেলে আজকের মধ্যেই মজুত শেষ হয়ে যাবে বলে দোকানি তাকে জানিয়েছে।

বেক্সিমকো ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ জানান, চাহিদা মাফিক উৎপাদনে ঘাটতি থাকার কারণে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। একই কথা জানালেন স্কয়ার, ইবনেসিনা, রেনেটা কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ ক্যামিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ঘাটাইল শাখার সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, কোম্পানি বেশ কিছুদিন ধরে সরবরাহ করছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান খান জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে জ্বর, সর্দি-কাশি বা গলাব্যথা জাতীয় রোগের সম্ভাবনা বেড়ে গেছে। তারপর করোনা সংক্রমণ বাড়ায় এ জাতীয় ওষুধের চাহিদা বেড়েছে। তাই সংকট হতে পারে।