উত্তরায় অবৈধ লেগুনার বেপরোয়া চলাচল, নেপথ্যে নীরব চাঁদাবাজি!

মিজানুর রহমান (ঢাকা), এটিভি সংবাদ

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, রাজধানীর ভেতরে কোনো লেগুনা চলাচল করতে পারবে না। বলা হয়েছে, এটি সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। কিন্তু কে শোনে কার কথা?

প্রশাসনের কথা অমান্য করে রাজাধানীর উত্তরার ব্যস্ত সড়কে ফিটনেসবিহীন লেগুনার বেপরোয়া চলাচলে সোনারগাঁও জনপথে যানজট  নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে দেখার থাকলেও অদৃশ্য কারণে তা দেখা হচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং নামক স্হান হতে সোনারগাঁও জনপথ হয়ে দিয়াবাড়িতে চলাচলকারী লেগুনা পরিবহনের বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। ওই রুটে শতাধিক লেগুনা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুরো সড়ক দাপিয়ে চলাচল করছে। এসব লেগুনার মধ্যে ৭০টির কাগজপত্র থাকার কথা জানা গেলেও তা নবায়ন করা হয় না। বাকিগুলোর নেই কোন প্রকার কাগজপত্র। এভাবেই কোন প্রকার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই লেগুনার চলাচলে সোনারগাঁও জনপথে হরহামেশা যানজট লেগেই থাকে।

একেবারে অবৈধভাবে এসব লেগুনা পরিবহন পরিচালনার সাথে হাউজ বিল্ডিং অংশের সাথে জড়িত রাজ, সালাউদ্দিন, হামিদ ও পনির এবং দিয়াবাড়ি অংশের সাথে জড়িত বিল্লাল ও সেলিমের নাম জানা গেছে। এছাড়া সোনারগাঁও জনপথে চলাচলকারী লেগুনা পরিবহনের সার্বিক পরিচালনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফছার উদ্দিন খানের আত্মীয় পরিচয়ে কাওসার নামে এক ব্যক্তি জড়িত থাকার কথা জানা গেছে। ঐ সড়কে চলাচলকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লেগুনা চালক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। তিনি এটাও জানান যে, প্রতিটি লেগুনা থেকে দৈনিক ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়। এ টাকা দিয়ে সকলকেই ম্যানেজ করে চলতে হয় বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে ডিএমপি ট্রাফিক উত্তরা পশ্চিম জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) সাইফুল মালিক এর নিকট জানতে চাইলে বিষয়টি তার নজরে নেই বলে জানান তিনি।

সড়কে যানবাহনের অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া সোনারগাঁও জনপথের ময়লার মোড় এলাকার ট্রাফিক পুলিশ বক্সের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মিরাজের নিকট জানতে চাইলে তিনিও এ ব্যাপারে কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অবৈধ লেগুনা চলাচলে নীরব চাঁদাবাজির ভূমিকায় যারা রয়েছেন, তাদের নিয়ে আসছে বিস্তারিত…..