বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী

মুন্সীগঞ্জের পদ্মা পাড় থেকে তৌফিকুর রহমান মাসুদ 

বাঙালি জাতির কাঙ্খিত পদ্মা সেতু উদ্বোধনী উপলক্ষ্যে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেয়ার জন্য স্টেজে ওঠেন। এ সময় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন শেখ হাসিনা।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি পদ্মা সেতুর মিথ্যা দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছিল সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মিথ্যা অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের যে মানসিক যন্ত্রণা হয়েছিল সেই কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি আবারও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা আমাকে বারবার সাহস দিয়েছেন। আমি বাবা, মা, ভাই- সব হারিয়ে এ দেশের মানুষের উপর ভরসা রেখেই পঁচাত্তরের পর যখন ছয় বছর রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছিল। বাংলাদেশ আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করেছিল বলেই আমি দেশে ফিরে আসতে পেরেছিলাম। এসেছিলাম একটি লক্ষ্য নিয়ে। যে বাংলাদেশ আমার বাবা স্বাধীন করে গেছেন, সেই বাংলাদেশ এভাবে অবহেলিত থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে, দুর্নীতির অপবাদ দিয়ে কীভাবে একটি পরিবারকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। সেই যন্ত্রণা ভোগ করেছে আমার বোন শেখ রেহানা, আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আমার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, আমার উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই যন্ত্রণা ভোগ করেছে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমত, সত্যের জয় হয়েছে।

এ সময় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি কৃতজ্ঞতা জানাই দেশবাসীর প্রতি যারা সেদিন আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। যারা এখানে বসবাস করতো তারা জমি ছেড়ে দিয়েছে। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। যদিও তাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে।

এর আগে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার। সকাল ১০টার দিকে তিনি সেখানে পৌঁছান।

বাঙালি জাতির গর্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাঙালি জাতির স্বপ্নের সেতু ‘পদ্মা সেতু’ আজ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। সশ্রদ্ধ সালাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, এমনটি বললেন এটিভি সংবাদের সম্পাদক এস এম জামান।