বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ

এস এম জামান, এটিভি সংবাদ

সারাদেশে আলোচনায় এখন বিদ্যুৎ সংকট। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণের। টিভি টকশো থেকে শুরু করে সর্বমহলে এখন আলোচনার বিষয় একটি তাহলো ‘বিদ্যুৎ সংকট’।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে মরিয়া হয়ে উঠেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে রাত ৮টার পরে সকল ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে অন্যথায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এটা কোন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কাজে আসবেনা। নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এ সকল মাথামোটা লোকজনগুলো।

দেশের সরকার প্রধানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি- আপনি দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। কোন প্রকার সন্দেহ নেই আপনার একার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশ আজ উন্নয়নের পথে। ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে আপনি একা কি করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? আপনার প্রতিটি মন্ত্রণালয় আজ দুর্নীতিতে জর্জরিত হয়ে আছে। সচিব থেকে শুরু করে একজনও নেই দুর্নীতির বাইরে। সিন্ডিকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে প্রতিটি দপ্তর। যেখানে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি একা করবেন কি? এতো মানুষের চিন্তা আপনার একা কেনো? দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আপনাকে কেনো বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে মুখে আঙ্গুল দিয়ে বসে আছেন?

দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ সঙ্কট দেখা দিয়েছে ব্যাপকভাবে। বিদ্যুতের এই সংকটময় মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় করছে কি? দেশে এতো বড় বড় উপদেষ্টা থাকা সত্ত্বেও করছে কি তাঁরা? আমি পিছনের কোন ইতিহাস টানবো না- আমি বলতে চাই এদেশের রূপকার আপনি, উন্নয়নের চালিকাশক্তি আপনি সুতরাং আগামীর উন্নয়নেও আপনাকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আপনার একটি সিদ্ধান্তে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এদেশের বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করা সম্ভব। আমি জোরালো কন্ঠে বলছি শুধুমাত্র সারাদেশের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগগুলো কেটে দিন, একটুও থাকবেনা বিদ্যুৎ সংকট। এদেশে হাজারো মিল কলকারখানা রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সরকারের পাওনা রয়েছে কোটি কোটি টাকা, সেই সব মিল কলকারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ কাটা হচ্ছে না কেনো? অবৈধ লাখ লাখ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে আর সেখান থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অসাধু লোকজন। কেনো কাটা হচ্ছে না সেই সব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ? কারণ ওটা দেখভাল করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একটি স্বার্থান্বেষী মহল। ওটা বন্ধ হলে বন্ধ হয়ে যাবে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন।

মন্ত্রণালয়ের রয়েছে ‘বিদ্যুৎ আইন ২০১৮’। যে আইনের আওতায় রয়েছে…

(১) কোন ব্যক্তি বাসগৃহ বা কোন স্থানে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ চুরি করিলে অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড অথবা চুরিকৃত বিদ্যুতের মূল্যের দ্বিগুণ অথবা ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

(২) কোন ব্যক্তি শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ চুরি করিলে অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড অথবা চুরিকৃত বিদ্যুতের মূল্যের দ্বিগুণ অথবা ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

আদৌ কি আইন মোতাবেক চলছে কাজ? এতো আইনের মাঝে কার্যক্রম চলছে বেআইনিভাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এ আইনের প্রয়োগ আপনাকেই ঘটাতে হবে। দেশের ১৮ কোটি মানুষ তাকিয়ে আছে আপনার দিকে, সুতরাং দেশ ও জাতির স্বার্থে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাকেই। সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হলে সিন্ডিকেটের কাছে দেশ বিলীন হবে, আপনি জাতির কাছে হবেন প্রশ্নবিদ্ধ!

সফল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একমাত্র আপনার সঠিক সিদ্ধান্তই হবে দেশ ও জাতির কল্যাণে অন্য কাউকে দিয়ে নয়!