“মেসুত মোস্তফা ওজিল” আমি ভালোবাসি তোমায়

যার চোখের দিকে তাকালে হৃদয় আপ্লুত হয়। স্বর্গীয় চাহনি, পরিচ্ছন্ন ও পরিশ্রমী খেলা যার ব্রত, যিনি মানব হৃদয়ে ভালোবাসা জাগানো ফুটবলার, ভালোবাসি যাকে তিনিই আমার প্রিয় ‘মেসুত ওজিল’। রোজা, নামাজ, আমল বাদ দেন না তিনি মাঠে। ভদ্রতা ও সুস্থ খেলার অনন্য উদাহরণ তিনি।

২০১৪ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে রোজা রেখে ফুটবল ম‍্যাচ খেলেন তিনি এবং ম‍্যাচের অন্তিম মুহূর্তে তিনি গোল করে জার্মানিকে জিতিয়ে দেন। যার কাছে একটি ফুটবল ম‍্যাচের চেয়ে রোজা রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিই ওজিল একজন মুসলিম প্লেয়ার হিসেবে আমাদের গর্ব।

তিনি আমাদের ভালোলাগা আর ভালোবাসা। তিনি মেসুত মোস্তফা ওজিল।

ksrm

১৯৮৮ সালের ১৫ অক্টোবর এক সাধারণ মুসলিম পরিবারে জন্ম তার। পুরো নাম মেসুত মোস্তফা ওজিল। জার্মান উচ্চারণে নামটা দাড়ায় অনেকটা এমন – Me- zut Oi-et-zil

আর্সেনালে যোগ দেয়ার পর তার খেলা দেখে ক্লাবের ফ্যানরা তার নাম দেয়,উইজার্ড ওজিল! বাংলা অর্থ করলে হয় যাদুকর ওজিল। বল পায়ে তার যাদু দেখে মুগ্ধ হয় না এমন ফুটবল প্রেমী দুনিয়াতে আছে কিনা সন্দেহ!! তার যাদু দেখে তো আর্সেনাল ওয়েংগার বলেই বসলেন “আপনি যদি ওজিলের খেলা দেখার জন্য এক্সাইটেড না হন, তবে আপনি ফুটবল প্রেমীই নন!

কি এমন আছে ওজিলের মধ্যে যাতে পুরো পৃথিবী বিমোহিত হয়ে আছে। নিখুঁত পাস, অসাধারণ ভিশন, বক্সের ভেতরে থাকা খেলোয়াড়ের মুভমেন্ট বুঝার অসামান্য ক্ষমতার পাশাপাশি প্রয়োজনে গোল দেয়ার গুণ তাকে করে তুলেছে অনন্য।

ওজিল জার্মানির হয়ে খেললেও খাটি জার্মান নন! ওজিলের পরিবার আশির দশকে তুরস্ক থেকে স্থানান্তরিত হয়ে জার্মানিতে আসে। তাই ওজিলের সঠিক পরিচয় তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান।

টার্কিশ হলেও জার্মানিতেই নিজের পেশাদারী ফুটবল জীবন শুরু করেন ওজিল। ১৮ বছর বয়সে জার্মান ক্লাব শালকা ০৪ এর হয়ে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু ওজিলের। সেখানে বছর দু’য়েক খেলে যোগদেন আরেক জার্মান ক্লাব ওয়েডার ব্রেমেনে।

জার্মানির জাতীয় দলের হয়ে ওজিলের অভিষেক হয় ২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নরওয়ের বিপক্ষে এক ফ্রেন্ডলি ম্যাচে। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মেসুত ওজিলকে। তাইতো মেসুত ওজিল ভালোবাসার মানুষ কোটি দর্শকের।

একান্তভাবে বলতে হয় আপনি যদি একজন প্রকৃত মুসলমান হয়ে থাকেন তাহলে কোরআনে স্পষ্ট আছে, এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। ওজিল শুধু একজন মুসলমানই নন, তাঁর যে জ্ঞান-গরিমা, কোরআনের আলোকে যার পথচলা, আখেরাত নিয়ে যার সর্বোচ্চ চিন্তা-চেতনা তিনি মেসুত মোস্তফা ওজিল। যাকে আমি বলি প্রকৃত মুসলমান, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর প্রকৃত উম্মত।

মেসুত মোস্তফা ওজিল আমি ভালোবাসি তোমায়, তুমি ইসলামের স্তম্ভ হয়ে বেঁচে থাকো সুস্থতায় শত বছর বিশ্ব মুসলমানের কাছে।