বিজয় দিবস উপলক্ষে কলকাতায় তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এটিভি সংবাদ  

যথাযোগ্য মর্যাদায় কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী মহান বিজয় দিবস-২০২২। ১৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) ছিল তার প্রথম দিন, উৎসব চলবে আগামী ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এতে নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

প্রথম দিন উপ-হাইকমিশন প্রাঙ্গণের বঙ্গবন্ধু মঞ্চে বাংলাদেশের বিজয় উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উপহাই কমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস। এরপর এনআরবি ওয়ার্ল্ড এর সদস্যরা এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

মিশন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর জীবনের নানা ছবি সংবলিত একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘বিজয়ের ৫১ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: অতীত, বর্তমান ও ভবিষৎ’ শীর্ষক এক আলোচনা। এই আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস- চ্যান্সেলর ড. মহম্মদ শাহ আজম, কলকাতার সাংবাদিক মানস ঘোষ, উপ-হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস প্রমুখ।

অধ্যাপক আব্দুল মান্নান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করে জানান, তখন ভারতও ছিল তৃতীয় বিশ্বের দেশ। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তা ভোলার নয়।

তিনি বলেন, ভারত আলাদা হলেও ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ছিন্ন হয়নি। আমি যখন কলকাতায় আসি, তখন আমার কখনো মনে হয় না দেশের বাইরে আছি। আমাদের যে বন্ধন তা রক্তের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়েছে, তা এখনো অটুট। এই বন্ধুত্বের বন্ধন ছিন্ন হবে না। এটি আত্মার, হৃদয়ের ও ঐতিহাসিক। গতকাল যে শত্রু ছিল, সে আজ বড় বন্ধু হতে পারে। এটা দুই দেশ বা প্রতিবেশীর মধ্যে হতে পারে। ১৯৭১ সালে যে রক্তের বন্ধন তৈরি হয়, সেই রক্তের রঙ লাল। যখন রক্তের প্রয়োজন হয়, আমরা জানতে চাইনা সে কোন ধর্মের। আমরা জানতে চাই সেটা মানুষের কি না? আসলে দিন শেষে আমরা মানুষ।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের যে সম্পর্ক, তা মাঝে মধ্যেই উঠানামা করে, চির ধরে, আবার ঠিকও হয়ে যায়, অনেকটাই পরিবারের মতো।

আব্দুল মান্নান বলেন, দুই দেশের মধ্যে বড় কোনো অমীমাংসিত বিষয় নেই। একমাত্র তিস্তা ছাড়া। আশা করা যাচ্ছে, উভয় পক্ষ অচিরেই এর সমাধান করবে। তাই সম্পর্ক ভালো থাকলে অনেক কিছুই হতে পারে। গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে কত রকম টালবাহানা ছিল, কিন্তু শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে।

ড. মহম্মদ শাহ আজম জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা দীর্ঘস্থায়ী হবে ততদিন, যতদিন পর্যন্ত মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ পরিচালনা করবেন। তিনি আমাদের শেষ ভরসাস্থল। শেখ হাসিনা থাকলে বাঙ্গালিত্ব থাকবে, আমরা বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস চর্চা করতে পারবো।

আলোচনা শেষে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।