জলপাইগুড়িতে মৃত মায়ের লাশ কাঁধে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে ছেলে!

জলপাইগুড়ি থেকে দিলীপ কুমার পাল, এটিভি সংবাদ

ছেলে সামান্য দিনমজুর, বৃদ্ধ বাবারও নেই আর্থিক সঙ্গতি। এমন এক পরিস্থিতিতে মায়ের মৃত্যু! মৃত মায়ের লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার খরচ জোগাড় করতে পারেননি ছেলে। বাধ্য হয়ে মায়ের লাশ কাঁধে করে অসহায় বৃদ্ধ বাবাকে সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে সেই লাশ বাড়িতে নিয়ে চলছেন ছেলে। গতকাল (৫ জানুয়ারী) বৃহস্পতিবার ভারতে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় রাস্তা দিয়ে লাশ বহনকারী বাবা-ছেলের এই করুন দৃশ্য দেখে পথ চলতি মানুষ হতবাক হয়েছেন।

জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জানুয়ারী) শ্বাসকষ্ট নিয়ে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় লক্ষ্মী রানী দেওয়ান নামে ক্রান্তি নগরডাঙ্গার বাসিন্দা এক নারীকে। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে ৭২ বছর বয়সী ওই নারী মারা যান।

ksrm

অভিযোগ, সেই লাশ বাড়িতে নিয়ে যেতে অ্যাম্বুলেন্স চালক প্রথমে ৩ হাজার রুপি দাবি করেন। যদিও ওই নির্দিষ্ট পথের ভাড়া ১২০০ রুপি বলে জানা যায়। ভাড়া কমানোর জন্য মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার আবেদন জানানো হয় অ্যাম্বুলেন্স চালককে। কিন্তু তারপরেও অ্যাম্বুলেন্স চালক রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়েই সেই লাশ চাদরে মুড়িয়ে কাঁধে তুলে নিয়ে জেলা হাসপাতাল থেকে বাড়ির পথে হাঁটা দেয় ছেলে রামপ্রসাদ দেওয়ান। তাকে সহায়তা করে অসহায় বৃদ্ধ বাবা।

ছেলের কাঁধে লাশের মাথার দিক, আর বাবার কাঁধে লাশের পায়ের দিক। জেলা হাসপাতাল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রত্যন্ত গ্রাম ক্রান্তি নগরডাঙ্গা। ফলে পথ চলতে চলতে মাঝেমধ্যে ক্লান্ত হয়ে লাশ মাটিতে রেখে অবসর নিতেও দেখা যায় তাদের। এমনকি ওই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পক্ষেও জানানো হয় যে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অ্যাম্বুলেন্স নেই।

দেশটির রাজ্যের মেডিকেল কলেজগুলোতে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও এমন একটি ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

উল্লেখিত বিষয়টির উপর দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগকে গুরুত্ব দেওয়ার জোর অনুরোধ জানিয়েছেন, এটিভি সংবাদ ডটকম’র সম্পাদক এস এম জামান। তিনি বলেন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের এ অমানবিক কর্মকাণ্ডের সঠিক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সারাবিশ্বের দরবারে বিষয়টি হবে প্রশ্নবিদ্ধ।