atv sangbad

Blog Post

চাঁদপুরে ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও ছেলে শান্ত খানের বিরুদ্ধে জিডি

চাঁদপুর প্রতিনিধি, এটিভি সংবাদ 

চাঁদপুরে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে হত্যার হুমকি দেওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খানের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক দু’টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

জিডি দু’টি করেছেন ওই ইউনিয়নের মৃত সিরাজুল ইসলাম খানের ছেলে নিরব খান বাদল ও মৃত জাহাঙ্গীর আলম খানের ছেলে ইসা খান। ২৭ ফেব্রুয়ারি জিডি করার একদিন পরই মারাত্মক হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন নিরব খান।

চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি সেলিম খান এবং তার পোষা বাহিনীর ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ইউনিয়ন এখন ভীতসন্ত্রস্ত এলাকায় পরিণত হয়েছে। সংবাদকর্মী কিংবা কেউ সেখানে গেলে তার নিজস্ব বাহিনীর নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হয়।

জিডিতে নিরব খান উল্লেখ করেন, সেলিম খান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ায় ক্ষমতার জোরে এলাকায় নানা অপকর্ম করে আসছেন। তারা ধনসম্পদ আত্মসাৎকারী, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী শ্রেণির লোক। সেলিম খান আমার ৭ শতাংশ জমি হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন। জায়গা বাবদ আমাকে ১ লাখ টাকা দিয়েছেন। বাকি টাকা চাইতে গেলে তার ছেলে শান্ত খান আমাকে গুলি করে হত্যা ও লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন। একদিন তিনি আমাকে বাড়িতে না পেয়ে ঘরে ঢুকে আমার মা ও বোনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। আমি যদি থানা বা আদালতে যাই তাহলে শান্ত খান আমার দুই ভাগিনা ও ভাগনিকে মেরে ফেলাসহ বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তারপর তারা আমাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে ফোনে হুমকি দেন-আমি এলাকায় বা বাড়িতে ঢুকলে আমার লাশ বস্তায় ঢুকিয়ে নদীতে ফেলে দেবেন। এখন আমি তাদের ভয়ে বাড়িতে ঢুকতে পারছি না। তাই আমি জীবনের নিরপত্তা চেয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।

হামলা প্রসঙ্গে নিরব খান বলেন, আমি বাড়ি যাওয়ার পথে শান্ত খান ও তার সহযোগী শাকিল, জাকির শেখ ও নাজমুলসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে আমার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে শান্ত বেদম মারধর করে আমাকে। দৌড়ে পালাতে গিয়ে আমি পড়ে গেলে তারা লাথি মারতে থাকে। এতে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাই। আমাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিন দিন ধরে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে। বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে কোনো ডাক্তার বা নার্স আমাকে চিকিৎসা ও ন্যূনতম সেবাও দেননি। বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে বাধ্যতামূলক রিলিজ দিয়ে দেয়। বর্তমানে আমি মাথা ও পিঠের যন্ত্রণায় মারাত্মক অসুস্থতাবোধ করছি। বর্তমানে অন্য কোনো হাসপাতালে ভর্তি হতে নিরাপত্তার অভাব মনে করছেন বলে তিনি জানান।

ভুক্তভোগী অপর ব্যক্তি ইসা খান জিডিতে উল্লেখ করেন, চেয়ারম্যান সেলিমের সঙ্গে জমি নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। স্থানীয় লোকজন মীমাংসা করতে চাইলে তা হয়নি। এরই মধ্যে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিসংক্রান্ত উচ্চমূল্যের বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের লিংক শেয়ার করায় সেলিম ২৫ ফেব্রুয়ারি আমার বাড়িতে গিয়ে গালমন্দ করেন। তিনি আমার গলা কেটে লাশ বস্তায় ভরে ফেলে দেয়ার হুমকি দেন।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রশিদ এটিভি সংবাদকে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ১ মার্চ চাঁদপুর মডেল থানায় পাল্টা জিডি করেছেন অভিযুক্ত সেলিম খানও। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি আমি ছেলে শান্তসহ ঢাকার কাকরাইলের শাপলা মিডিয়ার অফিসে কর্মরত ছিলাম। নিরব খান এ ধরনের বানোয়াট ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত মারামারির ঘটনা সাজিয়ে কাদের উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। নিরব পূর্বপরিকল্পিতভাবে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এসে আমার ও ছেলের নাম উল্লেখ করে তার ওপর হামলা হয়েছে বলে চিৎকার করে দাবি জানান।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রেকিং নিউজ :