atv sangbad

Blog Post

ঘাটাইলে হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবত্ব সম্পত্তি বেদখলের চেষ্টা!

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) থেকে গোলাম মোস্তফা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লাহিড়ীবাড়ী গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবালয়ের নামে ভাওয়াল রাজার বরাদ্দকৃত ৩৯ শতাংশ ভূমি যুগযুগ ধরে হিন্দুদের দখলে থাকলেও সম্প্রতি বেদখল হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে দফায়দফায় উভয়ের মাঝে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এলাকায় বিষয়টি নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যকর অবস্থা বিরাজ করছে। হরহামেশা রাস্তার মোড়ে, চায়ের দোকানে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। দেবালয়ের নামে বরাদ্দকৃত ভূমির উপরে শত বছরের পুরানো কুলাই গাছ (বটবৃক্ষ) বিস্তৃত জায়গা জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই বৃক্ষের পূজা অর্চণা করে আসছেন। বর্তমানে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে এক আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় অনেকেই বলেন এই জমিটি এতদিনে মহু নামে এক লোক এসে বেদখল দিচ্ছেন।
এলাকা ঘুরে দেখা যায় লাহিড়ীবাড়ি গ্রামে বংশাই নদীরপাড়ে বহুকাল আগে কুলাই দেবতা বাস করতেন বলে শোনা যায়। প্রায় ২ শত বছরের পুরোনো একটি বটগাছ তলায় সেকাল থেকে ভোগ দিয়ে আসছেন হিন্দুরা। বিভিন্ন সময়ে পূজাও করেন হিন্দু ধর্মালম্বীরা। গাছের চারপাশের ৩১৯ নং খতিয়ানের ৩৯ শতাংশ জমি তৎকালিন জমিদার (ভাওয়াল রাজা) সি.এসে কুলাই দেবতা নামে লিখে দিয়ে যায়। সম্প্রতি বটগাছের পাশে বসবাসরত মীর রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে মো.মহু উদ্দিন চারাগাছ লাগান। এর ফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের সম্পত্তি রক্ষার্থে বাঁধা দেয় এবং চারাগাছ উপরে ফেলে চারপাশে সিমেন্টের খঁটি দিয়ে ভাউন্ডারী করে ফেলেন। বট গাছের নিচে মন্দিরের পাশে এসময় উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ksrm

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ৮ জন গুরুতর আহত হন। পরবর্তিতে উভয় পক্ষ মামলার আশ্রয় নেয়। জমি দখল নিতে আসা মহু কোন ভাবেই সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলে ফোন কেটে দেন।

বটগাছের পাশের মুদি দোকানন্দার মো. আলম বলেন, হিন্দুরা এই বহু আগ থেকেই গাছ তলায় তাদের অনুষ্ঠান করে আসছেন। অনুষ্ঠানের সময় অনেক লোকের যাতায়াত গাছ তলায়। কিন্তু মহু এখানে সব জায়গাটুকু দখল করে গাছের চারা লাগিয়ে ছিল। আমার দোকানের সামনেও গাছ লাগিয়ে ছিল। পরবর্তিতে হিন্দুরা এসে গাছ তুলে ফেলে দেয়।

মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, আমরা দেশ স্বাধীন করেছি হিন্দু মুসলিমে দাঙ্গা করার জন্য নয়। সবাই মিলে বসবাস করবে এই আমার কথা। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে এই কুলাই তলা আসতাম, এসে দেখতাম হিন্দুরা এখানে পূজা করতেন। হিন্দুরা ভাওয়াল রাজার নিকট থেকে এই সম্পত্তি পেয়ে তারা সেকাল থেকেই ভোগ দখল করে আসতেছেন।

সংগ্রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মানিক মিয়া বলেন, এখানে যে হিন্দু সম্প্রদায় রয়েছে তারা খুব শান্তিপ্রিয়। আমি এই জায়গা নিয়ে এদের মধ্যে বিরোধ চাইনা। বিষয়টি মীমাংশা হওয়া খুবই জরুরী।

সভাপতি লাহিড়ীবাড়ী হিন্দু সম্প্রদায় ও ঘাটাইল উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সদস্য রথীন্দ্রনাথ সরকার তারা বলেন, এই ৩৯ শতাংশ ভূমি আমাদের পূর্ব পুরুষগণ প্রায় ২শত বছর আগে থেকেই ব্যবহার করে আসছেন এখন মহি উদ্দিন এসে এই জমি বেদল দিচ্ছে। যাহা আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মেনে নিবেনা।

প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী গোপিনাথ সরকার জানান, আমাদের দেবত্ব সম্পত্বি মহুসহ কিছু অসাধু লোকজন তাদের নিজ স্বার্থ হাসিলে জন্য পায়তারা করছেন। আমরা দেবত্ব সম্পতি কোনভাবেই ছেড়ে দিতে পারিনা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য স্বাধীন হাসান সেলিম জানান, আমি ছোট সময় থেকে দেখে আসতেছি এই কুলাই গাছের এখানে হিন্দুদের পূজা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে আসতেছে। এর মধ্যে আমরা জানতে পারলাম পাশের মহু নামের এক লোক এখানে গাছ লাগিয়ে দখলের চেষ্টা করেন।

সংগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম জানান, স্থানীয় হিন্দুদের বিরোধের কারণে অন্যরা জমি দলিল করে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয়ভাবে মীমাংশা করার চেষ্টা করছি।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটি আশা করছেন, স্থানীয় সচেতন মহল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রেকিং নিউজ :