atv sangbad

Blog Post

মধুমতি নদী ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে ২ ইউনিয়নের মানচিত্র

সাইফুল হাসান,  এটিভি সংবাদ  

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী ও নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মধ্যবর্তী মধুমতি নদী ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে ইতনা ও শালনগর ইউনিয়নের মানচিত্র। এতে এই দুই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে। চলতি মৌসুমেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের অসহায় মানুষেরা।

বর্ষার শুরু থেকেই নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরসুচাইল ও চরপরানপুর দুটি গ্রামে মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এ নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে এ এলাকার শত শত একর ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট গাছপালা, বসতভিটা ও কবরস্থান। উপজেলার মানচিত্র থেকে ক্রমাগত হারিয়ে যাচ্ছে নদীপাড়ের গ্রামগুলো।

মাত্র কয়েক দিনের ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন ইয়াছিন মুন্সী, টলিন মুন্সী, জাহাঙ্গীর মুন্সী, জামাল, কালাম, জসিম, আবু সাইদ, নাজমুল, লিবু মুন্সী, শরিফুল, নীহার বেগম, নাসিম, মিজান, মিরাজ, ইরানসহ বেশ কিছু পরিবার। সহায় সম্বল হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন কেউ কেউ। এখনো ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে ওই এলাকার অন্তত ৪০টি পরিবার ও বহু ফসলি জমি।

ভাঙনকবলিত গ্রামের বাসিন্দারা ভয়ে বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। বিভিন্ন ধরনের গাছপালা কেটে কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন। মাকড়াইল গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ ইতিমধ্যে নদীতে ভেঙে গেছে। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে মোবাইল ফোনের টাওয়ার।

ksrm

এদিকে শিয়েরবরের হাট রক্ষার জন্য নদীতে বালুর বস্তা (জিওব্যাগ) ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সম্প্রতি নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী হাটটি। এমনই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, মন্ডলবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মল্ডলবাগ আল-নুর জামে মসজিদ, নওখোলার আল-হেরা দাখিল মাদ্রাসা, চাকশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রামচন্দ্রপুর  গ্রামের একটি মসজিদসহ শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি।

ভুক্তভোগী মন্ডলবাগ গ্রামের নূর মোহাম্মদ ও কামরুল  শেখ বলেন, এ বছর মধুমতির ভাঙনে গ্রামের পাকা রাস্তা, বসতবাড়ি গাছগাছালী ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

চর-খোলাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা জিন্নাহ মিয়া, সাত্তার মিয়াসহ অনেকে জানান, ওই গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী নওখোলা, চরশালনগর, চরকাশিপুর গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিয়ে নদীর ওপারে বসবাস করছেন। তাদের দাবি, এই মুহূর্তে শিয়েরবরের হাট ও ভাঙনকবলিত গ্রামগুলো রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এলাকার মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী স্বপন কুমার মিডিয়াকে বলেন,  যেসব জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেখানে জরুরীভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলে (জিও ব্যাগ) ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেব।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রেকিং নিউজ :