atv sangbad

Blog Post

বগুড়ার গাবতলীতে শুরু হয়েছে ‘পোড়াদহ মেলা’

বগুড়া প্রতিনিধি, এটিভি সংবাদ 

বগুড়ার গাবতলীতে দুইশো বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী ‘পোড়াদহ’ মেলাকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে আশেপাশের এলাকায়। এই মেলার প্রধান আকর্ষণ বিভিন্ন প্রজাতির বিশাল আকৃতির মাছ। এজন্য এটি মাছের মেলাও হিসেবে অনেকের কাছে পরিচিত।

জানা যায়, প্রায় দুইশো বছর আগের ঘটনা। মেলাস্থলে ছিলো একটি বিশাল বট গাছ। সেখানে এক সন্ন্যাসীর আশ্রম তৈরি করলে একপর্যায়ে স্থানটি পূণ্যস্থানে পরিণত হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে। প্রতিবছর মাঘের শেষ বুধবার সেখানে সন্ন্যাসী পূজার আয়োজন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। কালের আবর্তে এ মেলাতে লোকজনের উপস্থিতি বেড়ে মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে এই মেলা। এভাবেই গোড়াপত্তন ঘটে পোড়াদহ মেলার।

বগুড়া সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্বে ইছামতির তীরে পোড়াদহ এলাকায় এ মেলা বসে। ফলে মেলাটি সবার কাছে ‘পোড়াদহ’ মেলা নামেই বর্তমানে সর্বাধিক পরিচিত। এবারের মেলায় সবচেয়ে বড় সাইজের কার্প মাছের ওজন ৪০ কেজি। প্রতিকেজি ২ হাজার টাকা হিসেবে মাছটির দাম হাঁকা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা।

মেলায় সবচেয়ে বড় মাছ নিয়ে আসা গাবতলীর বজলুর রহমান বলেন, নাটোর থেকে ৪০ কেজি ওজনের কার্প মাছ এনেছি। এটিই এই মেলার সবচেয়ে বড় মাছ। প্রতিকেজি ২ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করতে চাই।

ksrm

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা বাচ্চু সরকার নামে এক মাছ বিক্রেতা বলেন, ৩০ কেজি ওজনের কাতল এনেছি। ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকা কেজি চাচ্ছি। দাম মিলে গেলে বিক্রি করে দিব। এছাড়াও মেলায় রুই ৪০০-৫০০ টাকা কেজি, বোয়াল ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি এবং আইড় মাছের দাম চাওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি, নদীর পাঙ্গাস এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের পাশাপাশি এ মেলায় মাছের আকৃতির প্রায় বিশ রকমের মিষ্টি বিক্রি হয়। কাতলা মাছের আকৃতির ১১ কেজি ওজনের মিষ্টি এবার সবার নজর কেড়েছে। প্রতি কেজি ৪০০ টাকা হিসেবে ওই মিষ্টির দাম চাওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৪০০ টাকা। এছাড়া কুল (বরই) এবং কেশরসহ নানা স্বাদের ফলও উঠেছে মেলায়। এমনকি বিভিন্ন ধরণের ফার্নিচারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ছিলো চোখে পড়ার মতো।

মেলায় আসা আলাল উদ্দিন জানান, মেলা উপলক্ষে তার মেয়ে এবং জামাইসহ নাতি-নাতনিরা এসেছেন। তাদের জন্য তিনি ১০ হাজার টাকা দিয়ে ৭ কেজি ওজনের একটি আইড় মাছ কিনেছেন।

নুরুল আমিন নামে আরেকজন জানান, এ মেলায় তিনি প্রতি বছর আসেন। অন্য বছরের মতো এবারও তিনি বিভিন্ন ধরনের ৫ কেজি মিষ্টি কিনেছেন।

মেলা আয়োজক কমিটির প্রধান ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, এবারের মেলায় প্রায় দুই হাজার দোকান বসেছে। এর মধ্যে মাছের দোকান চার শতাধিক। এসব দোকানে কয়েক কোটি টাকার মাছ কেনা-বেচার টার্গেট করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রেকিং নিউজ :