বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার আগে ফ্রান্সকে ১৯৮২ সালের কিংবদন্তি ব্রাজিল দলের পর টুর্নামেন্টের সবচেয়ে চোখধাঁধানো আক্রমণভাগের দল হিসেবে প্রশংসা করা হচ্ছিল।
একসময় জিকো, এডার, ফ্যালকাও ও সক্রেটিসদের ব্রাজিল বুঝেছিল যে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল সবসময় সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না, তেমনি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও তাঁর সতীর্থরাও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন।
এবারের বিশ্বকাপে ঝলমলে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়া ফ্রান্সের অভিযান শেষ হলো অনেকটা ব্যর্থতাকে সঙ্গী করেই। স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হলো তাদের। এই হার সম্ভবত কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের উত্তরাধিকারের ওপরও ছাপ ফেলবে।
এমবাপ্পে, ওসমানে ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, ব্র্যাডলি বারকোলা এবং ডিসায়র ডুয়ের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ সেমিফাইনালে ওঠার পথে ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করেছিল। কিন্তু মঙ্গলবার টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে স্পেনের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের সামনে ফ্রান্সের বহুল প্রশংসিত আক্রমণভাগ ৭৫ মিনিটেরও বেশি সময় পর্যন্ত লক্ষ্যভেদী কোনো শটই নিতে পারেনি।
ততক্ষণে স্পেন ২-০ গোলে এেিয় থেকে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা তখন বুঝতে পারছিলেন, শক্তিশালী অস্ত্রাগার থাকলেই হয় না, সেটিকে কার্যকর করতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদও প্রয়োজন।
স্পেনের রদ্রি, ডানি ওলমো ও ফাবিয়ান রুইজের দুর্দান্ত মিডফিল্ড ফ্রান্সের মাঝমাঠকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে আক্রমণভাগে বলের জোগান বন্ধ হয়ে যায় এবং ফরাসিরা নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে।
এমবাপ্পে ম্যাচ শেষে বলেন, “মাঝমাঠে আমরা বারবার তিন বনাম দুই পরিস্থিতিতে পড়ে যাচ্ছিলাম। আর স্পেনের বিপক্ষে এটা বড় সমস্যা। সবকিছু মিলিয়েই ফলাফল এসেছে- পরাজয়। এটি ভীষণ হতাশাজনক।”
তিনি আরও বলেন, “কৌশলগতভাবে, কারিগরি দিক থেকে কিংবা সামগ্রিক পারফরম্যান্স, কোনো দিক থেকেই আমরা কাঙ্খিত ম্যাচ খেলতে পারিনি। আর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আপনি যদি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারেন, তাহলে জয় পাওয়া সম্ভব নয়।”
অন্যদিকে, ফ্রান্সের কোচ হিসেবে বিদায়ের আগে দেশ্যমকে এমন এক অভিযানের হতাশাজনক সমাপ্তি মেনে নিতে হচ্ছে, যা গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে শিরোপা জয়ের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।