ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় বিধ্বস্ত নেপালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া ৩২ জন পর্যটকের একটি দল আটকা পড়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্যোগের মধ্যে এখনো ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের ওই পর্যটক দলের মধ্যে রয়েছেন হুগলির চন্দননগরের বাসিন্দা শিপ্রা রায়। তার ছেলে অনীক জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মায়ের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। এর পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ষাট বছর বয়সী শিপ্রা রায় একাই কৈলাস-মানস সরোবর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গত ২১ আগস্ট বাসে করে রওনা দেন বলে জানায় বিবিসি বাংলা। একই পর্যটক দলে রয়েছেন কলকাতার বাসিন্দা রিনা ব্যানার্জি। তার ভাগ্নে দ্বৈপায়ন মুখার্জি জানিয়েছেন, রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিনার সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। পরে নেপালে ভয়াবহ দুর্যোগের খবর পাওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগে রয়েছে। পর্যটন সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই দলটি সর্বশেষ নেপালের একটি ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টের কাছে অবস্থান করছিল। এরপর তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দলটিতে দুর্গাপুর, উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বাসিন্দারাও রয়েছেন। অন্যদিকে, আরামবাগের সৌভাগ্য দত্তের মা গত ২৪ আগস্ট অন্য একটি পর্যটক দলের সঙ্গে নেপালে যান। বন্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে স্থানীয় এক ঠিকাদারের সহায়তায় মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পেরে স্বস্তি পান সৌভাগ্য। ভয়াবহ দুর্যোগের কারণে নেপালে বহু পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের খোঁজখবর নিতে এবং পরিবারের সদস্যদের সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি হেল্পলাইন চালু করেছে।