ওবায়দুল কবির, এটিভি সংবাদ //
গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, গাজীপুরের বাসন থানার ওসি শাহীন খান।
স্থানীয়দের একটি সূত্র দাবি করে, ফুটেজে দেখা যাওয়া সন্ত্রাসীরা হলেন, চান্দনা চৌরাস্তা (চান্না) এলাকার কেটু মিজান, তার সহযোগী শাহ জামাল, বুলেট ও সুজন। তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী বলে তাদের দাবি। এই হত্যার ঘটনায় সাংবাদিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। দ্রুত বিচার ও খুনিদের গ্রেফতারের দাবি উঠেছে সর্বস্তর থেকে।
জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজে নারীর সঙ্গে যুবক বাদশা মিয়ার ধস্তাধস্তি হয়েছিল সে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি দাবি করেন, ওই নারী একটি দলের অংশ। ওরা আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে, আমি তাদের চিনতাম না।
আসাদুজ্জামান তুহিনের বড় ভাই সেলিম বলেন, তুহিনের দুই ছেলে তৌকির হোসেন তৈকি (৫) ও আবদুল্লাহ আল ফাহিম (৩) অভিভাবক হারালো। আমার ভাইকে কেন হত্যা করা হলো? এখন এই মাসুম বাচ্চাদের দায়িত্ব কে নেবে? তিনি এই হত্যার বিচার ও আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
সাংবাদিক তুহিনকে হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে চান্দনা এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তারা তুহিন হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান। এ ছাড়া জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নও হত্যার প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে গাজীপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সভা করেছে গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন। মানববন্ধনে সাংবাদিকেরা সাংবাদিক হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা বলেন, গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। মহানগরের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি ও ছিনতাইকারীদের মদদদাতাদেরও চিহ্নিত করতে হবে। আসামিরা চিহ্নিত হয়েছে, তাদের সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এরপরও গ্রেফতার করতে না পারা প্রশাসনের বড় ধরনের ব্যর্থতা।
গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, সাংবাদিক ফজলুল হক মোড়ল, মাজহারুল ইসলাম, মাসুদ রানা, মাহমুদা শিকদার, আমিনুল ইসলাম, শরীফ আহমেদ শামীম, শাহ শামসুল হক রিপন, আজিজুল হক, রেজাউল করিম প্রমুখ।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বাদ জুমা চান্দনা চৌরাস্তা দর ঈদগাহ মাঠে প্রথম জানাজা শেষে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নিজ গ্রাম ভাটিপাড়ায় বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি’র) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) তাহেরুল হক চৌহান বলেন, পুলিশের একাধিক টিম দুটি ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কিছু আসামি শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই শনাক্তকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। দোষীদের আটক করা গেলে ঘটনার পুরো চিত্র পরিষ্কার হবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তায় কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। তুহিনের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার ভাটিপাড়া গ্রামে। তিনি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতেন।
সারাদেশে যেভাবে জাতির বিবেক ধ্বংস করা হচ্ছে, যেখানে খুন হত্যাযজ্ঞ নিয়মিতই চলমান, সাংবাদিকদের বিষয় নিয়ে হাইকোর্ট থেকে শুরু করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের যে নীতিবাক্য গণমাধ্যমে বার বার উঠে আসছে সেগুলো তাহলে কি ছিল? সাংবাদিকদের বার বার হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে- নেই কোন প্রতিকার, যা গোটা জাতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মন্তব্য করেন, এটিভি সংবাদ ডটকম’র সম্পাদক এস এম জামান।
এটিভি/তুহিন হত্যা