ইরানে দুর্বল অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভকে ঘিরে সহিংসতায় আরো দুজন নিহত হয়েছেন বলে শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর ফলে চলমান আন্দোলনে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘তেহরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সহিংসভাবে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২২টি প্রদেশের শতাধিক স্থানে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
যদিও আন্দোলনের মূল কারণ অর্থনৈতিক সমস্যা, বিক্ষোভকারীরা এর পাশাপাশি ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধেও স্লোগান দিচ্ছেন। গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়—এরপর কয়েক মাস ধরে ইরান অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে খুব একটা সফল হতে পারেনি।
সম্প্রতি ইরান দাবি করেছে, তারা দেশের কোনো স্থানেই আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে না। পশ্চিমাদের কাছে নিজেদের আলোচনায় আগ্রহী হিসেবে তুলে ধরতে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথ খোলার উদ্দেশ্যেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো আলোচনা শুরু হয়নি। এরই মধ্যে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে যাচ্ছেন।
এটিভি/এসএম/বিশ্ব