শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীর ক্লাসরুমে মোবাইল ফোন নিয়ে দ্বন্দ্বে সহপাঠীর ছুরিকাঘাতে জুনায়েদ (১৪) নামে এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয় চলাকালীন এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। আহত জুনায়েদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নবম শ্রেণীর ছাত্রী জামিলা আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “আমার চোখের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে। মোবাইল নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নয়ন হঠাৎ ছুরি বের করে জুনায়েদকে আঘাত করতে থাকে। আমরা কয়েকজন ছাত্রী মিলে তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সে আমাদের সামনেই জুনায়েদকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে দৌড়ে পালিয়ে যায়।”
ইদিলপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমদাদ হোসেন বলেন, “ঘটনাটি শোনার পরপরই আমরা দ্রুত ছাত্রটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। ক্লাসরুমের মধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্যের অবনতি দেখে দ্রুত তাকে ঢাকায় রেফার করেছেন।”
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএস এ ডা. হাফিজুর রহমান বলেন, “আহত ছাত্রের পিঠে ও হাতে গভীর ক্ষত হয়েছে। শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আমরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় রেফার করেছি।”
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে তদন্তে আসেন গোসাইরহাট থানার এসআই ননিগোপাল। তিনি ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। পুলিশ জানায়, “প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ছাত্র নয়ন সরদার ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।”
প্রকাশ্য দিবালোকে এবং সহপাঠীদের সামনে এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনায় এলাকায় এবং বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিভাবকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।