সেই ভয়াবহ দিনে আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুপারিশের ব্যবস্থা করবেন।
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা দুই উজ্জ্বল সুরা বাকারাহ ও আলে ইমরান পাঠ কোরো।
শুধু তিলাওয়াত নয়
হাদিসে বলা হয়েছে, ‘কোরআন তার সঙ্গীদের জন্য’ অর্থাৎ যারা কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে, কোরআনের সাহচর্য গ্রহণ করে। কোরআনের সঙ্গী হওয়া শুধু সুন্দর কণ্ঠে তিলাওয়াত করার নাম নয়। কোরআনের সঙ্গে প্রকৃত সম্পর্কের কয়েকটি স্তর রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করে।
অন্য আয়াতে এসেছে, ‘তবে কি তারা কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না?’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৮২)
প্রসিদ্ধ তাবেঈ হাসান বসার (রহ.) বলেন, কোরআনুল কারিম নাজিল করা হয়েছে, যেন তোমরা তাদাব্বুর ও চিন্তা-ভাবনা করো এবং এর ওপর আমল করো; সুতরাং আমলের উদ্দেশ্যে তিলাওয়াত করতে থাকো। (মাদারিজুস সালিকিন : ১/৪৫২)
অতএব, তিলাওয়াতের পাশাপাশি কোরআনের অনুবাদ পাঠ, অনুবাদ থেকে গভীরভাবে চিন্তা করে উপলব্ধি করা, উপলব্ধি থেকে আমল এবং আমল থেকে চরিত্রের পরিবর্তন—এটাই হওয়া উচিত কোরআনের সঙ্গে মুমিনের প্রকৃত সম্পর্ক। এভাবেই কোরআনের তিলাওয়াত জীবন্ত তিলাওয়াতে পরিণত হয়।
(ইবনে কাসির : ৭/৯৩, মাআরেফুল কোরআন : ২/৪৮৮)
কোরআনের প্রতিটি অক্ষরে নেকি
কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে যারা এখনো দুর্বল, তাদের জন্যও রয়েছে সুসংবাদ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে; আর একটি নেকি ১০টি নেকির সমান।’ এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি বলি না যে আলিফ-লাম-মিম একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মিম একটি অক্ষর।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৯১০)
যাঁরা বলেন, আমি ঠিকমতো কোরআন পড়তে পারি না। তাদের জন্য নবীজি (সা.)-এর নির্দেশনা হলো, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পড়ে এবং পড়তে তার কষ্ট হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৯৩৭)
কোরআন মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এই কিতাবের মাধ্যমে কিছু মানুষকে মর্যাদা দান করেন এবং অন্যদের অবনমিত করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮১৭)
অন্য হাদিসে তিনি আরো বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কোরআন শেখে এবং তা শিক্ষা দেয়।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০২৭)
যারা কোরআনকে অবহেলা করবে, তাদের বিরুদ্ধে নবীজি (সা.) আল্লাহ তাআলার কাছে অভিযোগ করে বলবেন, ‘হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে পরিত্যক্ত করে রেখেছিল।’ (সুরা : ফোরকান, আয়াত : ৩০)
কোরআন পরিত্যাগের অর্থ শুধু কোরআন না পড়া নয়; এর শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, এর বিধানকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কোরআনের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক হোক আজই
আমাদের অনেকের ঘরে কোরআন আছে, কিন্তু জীবনে কোরআনের উপস্থিতি কতটুকু? তাকের ওপর সুন্দর মলাটে কোরআন রাখা আছে, অথচ প্রতিদিন মোবাইলের পর্দায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যায়। তাই প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করা, সম্ভব হলে অর্থ ও তাফসির পাঠ, মুখস্থ আয়াতগুলোর পুনরাবৃত্তি এবং পড়া আয়াত অনুযায়ী আমলের চেষ্টা করা। আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দিন। আমিন।