শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর বালার বাজার এলাকায় অবস্থিত আর.বি.এম ব্রিকস নামের একটি ইটভাটার ম্যানেজার উত্তম সাহার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে আড়াই কোটি টাকা নিয়ে পরিবারসহ আত্মগোপনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ জানাজানি হওয়ার পর টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে পাওনাদাররা তার বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত এই ইটভাটাটি বর্তমানে দেখাশোনা করেন মালিক বিশাল সাহা। ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন পার্শ্ববর্তী পন্ডিত বাজার এলাকার বাসিন্দা উত্তম সাহা।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি ব্যবসায়িক সূত্রে এবং ইট বিক্রির নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
গত বুধবার রাতে বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়িতে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজনসহ স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে উত্তম সাহা গা ঢাকা দেন।
বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ইটভাটা ও তার বাড়িতে পাওনাদারদের ভিড় শুরু হয়।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্যঃ
এক ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম তালুকদার বলেন, “গত ফেব্রুয়ারিতে ইট কেনার জন্য ৬০ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলাম। ম্যানেজার উত্তম সাহা ইট দেওয়ার কথা বলে বারবার সময়ক্ষেপণ করছিলেন। আজ সকালে এসে জানতে পারি তিনি অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। আমি বৈধভাবে ইট কিনেছি, তাই আমার ইট চাই।
আরেক পাওনাদার আল-আমিন সরদার অভিযোগ করেন, ব্যবসার কথা বলে উত্তম তার কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নিয়েছেন, যার মধ্যে ১০ লাখ টাকা এখনো বকেয়া। তার দাবি, উত্তম সাহা গ্রাহকদের কাছ থেকে অন্তত ৫ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন।
পরিবারের প্রতিক্রিয়াঃ
উত্তম সাহার বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে পাওয়া গেলেও তারা ছেলের অবস্থান জানেন না বলে জানিয়েছেন। তার বাবা দুলু সাহা বলেন, “আত্মীয় অসুস্থতার কথা বলে রাতে পরিবারসহ বাড়ি থেকে বের হয়েছে। এত টাকা নিয়ে পালিয়েছে তা আমাদের জানা ছিল না।
মালিকের পদক্ষেপঃ
ইটভাটার মালিক বিশাল সাহা উত্তম সাহার সন্ধান পেতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে উপযুক্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি জানার পর থানায় গিয়েছি। আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাওনাদাররা দ্রুত টাকা ফেরত ও অভিযুক্তের গ্রেপ্তার দাবি করছেন।