মজনুর রহমান আকাশ, গাংনী(মেহেরপুর) প্রতিনিধি//
মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন থেকে প্রতিদিন ˆতরি হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট সার| পৌরবাসী ফেলে রাখা বৈর্জ্য থেকে প্রতি দুই মাসে ৮০০ কেজি সার প্রস্তুত করা হয়| আগামীতে অধিক পরিমাণ আর প্রস্তুত হবে বলে আশা করছেন পৌর কর্তৃপক্ষ| শুধু তাই নয়, বৈর্জ্য থেকে প্লাস্টিক আলঅদা করে তা কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলেও দাবী করেছেন পৌর কর্তৃপক্ষ|
জানা গেছে, পৌর এলাকায় সুন্দর পরিবেশ রাখার জন্য গাংনী পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের ডাস্টবিন রাখা আছে| সেখানে শহরবাসি ময়লাও আবর্জনা ফেলে রাখে| প্রতিদিন সকালবেলা পৌর কর্তৃপক্ষ গাড়িতে সেই আবর্জনা ডাম্পিং স্টেশন চৌগাছাতে জমা করে| মাত্র দুইজন শ্রমিক ওই আবর্জনা থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট অংশ আলাদা করে| পরে গ্রাইন্ডার মেশিনের মাধ্যমে ভার্মি কম্পোস্ট স্যার প্রস্তুত করা হয়|
কৃষি প্রধান জেলা হিসাবে এ উপজেলার সবজি চাষিরা এই সার নিয়ে বিষমুক্ত সবজি আবাদ করেন| এতে করে ¯^ল্প খরচে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করেই সবজিসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করেন তারা| অন্যদিকে শহরবাসী ময়লা ও আবর্জনা মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন| প্রতিদিন ৩টন বর্জ্য জমা হয় ডাম্পিং স্টেশনে| আগামীতে আরো বর্জ্য জমা হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমান ˆজব সার উৎপন্ন হবে|
সাহারবাটির গ্রামের চাষি সাবান আলী জানান, কম্পোস্ট সারের সবচেয়ে বড় উপকার হলো এটি সব ধরণের গাছের জন্যই ব্যবহার করতে পারা যায়| এছাড়া কম্পোস্ট সার প্রয়োগের ফলে মাটির উর্বরতাও বেড়ে যায়| এছাড়া কম্পোস্ট সার যেসব গাছের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, তারা বিভিন্ন রোগে কম আক্রান্ত হয়| একই কথা জানান আলভী ও মীর শামীম|
গাংনী পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদ জানান, প্রতিদিনই শহরে বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয়| এগুলো যেখানে সেখানে না ফেলে বেশ চমৎকার এক কাজে ব্যবহার করা যায়| সেটা হলো কম্পোস্ট সার ˆতরি করা| সব ধরণের ˆজবিক পদার্থই এক সময়ে ধীরে ধীরে পচে যেতে শুরু করে| আর এই পচনের জন্য মূলত দায়ী কিছু বিশেষ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ও আরো কিছু জীবাণু| পচে যাওয়া এসব পদার্থকে ঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে তা মিশ্র সার হিসেবে খুব ভালো কাজে দিতে পারে| পৌরসভা একইভাবে কমপোস্ট সার ˆতরী করছে|
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়র রহমান জানান, বর্জ্য দিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ যে সার উৎপন্ন করছেন সেটি কৃষি ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভুমিকা রাখছে| এটি আরো বিস্তৃত হলে কৃষকেরা আরো উপকার পাবেন|