মো:তফছির তালুকদার শাকিল ময়মনসিংহ গফরগাঁ প্রতিনিধি//
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন দত্তেরবাজার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান (গোলাপ মাস্টার) এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সুপারিশ ও বৈধ নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক হলেও অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান এসব নিয়মকে উপেক্ষা করে অবৈধভাবে একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিবন্ধনবিহীন ব্যক্তিদের সহকারী শিক্ষক, প্রভাষক ও ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বৈধ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে এনটিআরসিএর সুপারিশপত্র ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাকডেটে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে দত্তেরবাজার স্কুল এন্ড কলেজের ২৬ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) নিকট প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় নির্ধারিত ফি’র তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। এ নিয়ে বহু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের একমাত্র প্রধান একাডেমিক ভবন সংস্কারের কথা বলে ভেঙে ফেলা হলেও সেই কাজের আর্থিক হিসাব কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো স্বচ্ছতা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বর্তমানে চরম ভোগান্তির শিকার। কখনও খোলা আকাশের নিচে, আবার কখনও অন্য প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ খালি হওয়ার অপেক্ষায় থেকে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ে সক্রিয় ছিলেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।