দৈনিক এটিভি সংবাদ
জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারের রাজনগরে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করে বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দিয়ে প্রায় ১৮ দিন ধরে নিখোঁজের নাটক সাজিয়েও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি ঘাতক স্বামী আলমগীরের। সন্দেহ এড়াতে তিনি নিজেই থানায় গিয়ে স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু পুলিশের কৌশলী তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে তিনি ভেঙে পড়ে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।
অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খায়ের এবং রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে রাজনগর থানা পুলিশ বাড়ির উঠানে খননকাজ পরিচালনা করে। পরে মাটি খুঁড়ে গৃহবধূ জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ক্ষোভ, বিস্ময় ও উদ্বেগ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় ১৮ দিন আগে স্ত্রী জায়েদা বেগমকে হত্যা করেন আলমগীর। পরে অপরাধ গোপন করতে বাড়ির উঠানেই মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। এরপর এলাকায় তিনি স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার গল্প ছড়িয়ে দেন। দীর্ঘদিন মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনরা আলমগীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বিভিন্নভাবে তাঁদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। প্রায় ১৮ দিন পর মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য উপস্থিত জনতাকে স্তব্ধ করে দেয়। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক আলমগীরের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামী আলমগীরকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে রাজি হয়নি পুলিশ।
এদিকে, নিহত জায়েদা বেগমের পরিবার এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
রাজনগরের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহ বাস্তবতাকে সামনে এনে দিয়েছে। একটি পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও ভবিষ্যৎকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া এ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মানুষের মুখে এখন একটাই দাবি—এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত হোক।