টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া নোয়াখালী, মৌলভীবাজার ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন নিচু এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
অতি বর্ষণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গত পাঁচ দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যা ও ভূমিধসে ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও ভূমিধসে বেশ কিছু শিশুর প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অভ্যন্তরীণ সড়কের একটি অংশ দেবে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের আটটি বিভাগেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। যদিও নিম্নচাপের প্রভাব কমে আসছে, তবুও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আরও কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল দুরূহ হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকা, কৃষিজমি ও মৎস্য ঘের তলিয়ে যাওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ থাকার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ সতর্ক রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।