অনুসন্ধানী প্রতিবেদক। এটিভি সংবাদ /
মাগুরা-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থানীয় রাজনীতিতে কোন্দল ও সংঘাতের সুর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ৩নং দীঘা ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর এই ধরণের উগ্র ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ড দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মামলা-হামলার শিকার ত্যাগী নেতাদের অবদানকে উত্যক্ত করছে এবং মাগুরায় বিএনপির রাজনৈতিক ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে তৎকালীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় পার্টি থেকে আসা এক তরুণ নেতাকে বিএনপিতে বরণ করে নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি সংসদ সদস্য ও সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা কাজী সলিমুল হক কামালসহ একটি গোষ্ঠী তৎকালীন সময়েও ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী হতে বাধা সৃষ্টি করেছিল।
স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলেও তিনি স্থানীয় নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে।
ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, রবিউল ইসলাম নয়ন ওই মতবিনিময় সভায় নাম না করে সাবেক ওই মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের উদ্দেশ্য করে উগ্র ভাষায় বক্তব্য দেন এবং ‘লাল কার্ড’ দেখানোর হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়া তিনি প্রশাসনকেও একপ্রকার হুমকির সুরে হুঙ্কার দিয়েছেন।
স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রশ্ন—যে নেতাকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ও দলের উচ্চপর্যায় থেকে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং যিনি দলের টিকিটে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হয়েছেন, তাঁকে নিয়ে এমন অবমাননাকর মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাকে কোনো পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে?
দলীয় বিভাজন ও আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ:
স্থানীয়দের দাবি, ৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে রবিউল ইসলাম নয়ন মাঠে নেমেছেন এবং মাগুরা-২ আসনে দলের ভেতর বিভাজন তৈরি করছেন।
এছাড়া স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের আমলের সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত কর্মীদের নিয়ে নিজের পাল্লা ভারী করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকা মূলধারার নেতা-কর্মীরা কোণঠাসা বোধ করছেন এবং পুরো জেলায় শান্তিপ্রিয় রাজনৈতিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল বিএনপির প্রত্যাশা, কেন্দ্রের উচ্চপর্যায় থেকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে দলের অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল নিরসন করা হবে এবং মাগুরায় বিএনপির দীর্ঘদিনের সুনাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।