যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং সচিবের অপসারণের দাবিতে যশোর সরকারি এম এম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যশোর সরকারি এম এম কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান জেসান নিজের সনদে নামের বানান সংশোধনের প্রয়োজনীয় কাজে যশোর শিক্ষা বোর্ডে যান। সেখানে তিনি শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. আব্দুল মতিনের কক্ষে গেলে তার গলায় হেডফোন ঝুলতে দেখে সচিব ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় সচিব তাকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে জেসান বিনয়ের সঙ্গে সচিবকে বলেন, “স্যার, আপনি আমাকে মারলেন? আমাকে ওয়ার্নিং দিতে পারতেন।” অভিযোগ রয়েছে, জবাবে সচিব বলেন, “মেরেছি তো কী হয়েছে।”
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এম এম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে সচিবের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে কলেজ ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে যশোর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পী বলেন, “জেসান যদি কোনো নিয়ম ভঙ্গ বা অন্যায় করেও থাকে, তাহলে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া যেত কিংবা বিষয়টি বুঝিয়ে বলা যেত। কিন্তু কোনো অভিভাবকতুল্য শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলবেন—এটা কোনোভাবেই একজন শিক্ষাবিদের কাছে আশা করা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর এই অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে আমরা রাজপথে নেমেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সচিবকে অপসারণ করা না হলে যশোর শিক্ষা বোর্ড ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। অপসারণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের সচিবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে এ ঘটনার প্রতিবাদে ও সচিবের শাস্তির দাবিতে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এম এম কলেজ প্রাঙ্গণে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগের বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. আব্দুল মতিনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।